Ajker Patrika

এইচআইভি সংক্রমণে ৫ মাসে ৭ জনের মৃত্যু

  • এইচআইভি আক্রান্ত তিনজনেরই মৃত্যু গত মে মাসে
  • সাত মাসে ৩৭ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত
  • কুমেক হাসপাতালে ১৫ জেলার ৫৪৬ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
এইচআইভি সংক্রমণে
৫ মাসে ৭ জনের মৃত্যু

কুমিল্লায় এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই জেলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনই মারা গেছেন গত মে মাসে। আর সাত মাসে নতুন ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিশেষ বিভাগ এআরটি সেন্টারে দেশের ১৫ জেলার মোট ৫৪৬ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার রোগীর সংখ্যা ৩৮৫ জন। কুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মরণব্যাধি এইডসের জন্য দায়ী এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মে মাসে জেলায় তিনজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ মে ২১ বছর বয়সী একজন, ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী এবং ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ মারা যান। সবাই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে জেলায় পাঁচ মাসে সাতজনের প্রাণ গেছে এইচআইভিতে।

এইচআইভি সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী বিভিন্ন উপসর্গের সমষ্টিকে এইডস বলা হয়; যা ওই ভাইরাসে আক্রান্তের শেষ ধাপ। কোনো রোগী এই পর্যায়ে পৌঁছালে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

এইচআইভিতে মারা যাওয়া ২১ বছর বয়সী এক যুবকের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী কুমিল্লা ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। বিয়ের আগেই তাঁর স্বামীর এইচআইভি শনাক্ত হয়। তবে তাঁর স্বামী বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার সময় স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষা করিয়ে এই নারীও এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানতে পান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের একটি শিশুসন্তান রয়েছে।

কুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ সমকামী যৌন সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তিনজন বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত, দুজন সাধারণ মানুষ, দুজন বিদেশফেরত, একজন নারী যৌনকর্মীর গ্রাহক এবং অন্য ছয়জন অন্যান্য শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া ২০১৯ সাল থেকে গত মে মাস পর্যন্ত কুমেক হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ৬৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৮ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ জন একই সঙ্গে যক্ষ্মা রোগেও ভুগছেন।

বর্তমানে কুমিল্লা ছাড়াও নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, নরসিংদী, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ ও বান্দরবান জেলার রোগীরা কুমেকের এআরটি সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ২২৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জন, ২০২০ সালে ৩১১ জনের মধ্যে ৮, ২০২১ সালে ৪৯৮ জনের মধ্যে ১৪, ২০২২ সালে ৭৮৬ জনের মধ্যে ২১, ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩০ জনের মধ্যে ৪৮, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৮১ জনের মধ্যে ৫৮ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২ জনের মধ্যে ৭২ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়।

এআরটি সেন্টারের কর্মকর্তা আরিফ হাসান বলেন, ‘আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বেশির ভাগেরই সংক্রমণ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত