Ajker Patrika

হাওরে পরিযায়ী পাখি নিধন থামছেই না

  • হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে পরিযায়ী পাখি শিকার বন্ধ হচ্ছে না।
  • কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলের মানুষের সকাল হতো পাখির কিচিরমিচির শব্দে।
মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ০৫
ছবি: আজকের পত্রিকা
ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে পরিযায়ী পাখি শিকার চলছেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনরাত নির্বিচারে পাখি শিকার করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না শিকারিদের ব্যাপারে। এ দিকে অতীতের তুলনায় এসব এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমন কমেছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়রা বলেন, কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলের মানুষের সকালের ঘুম ভাঙত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দে আর সন্ধ্যা হতো আকাশে ওড়া পাখি দেখে। তবে এই চিত্র মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে। এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে অতিরিক্ত পাখি শিকার ও মৎস্যনিধনকে। বলা হচ্ছে, হাওরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিরা আগের মতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। একই সঙ্গে নিরাপদ আবাসস্থলের তীব্র অভাব রয়েছে।

বাইক্কা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০০৩ সালের ১ জুলাই ১০০ হেক্টর জলাভূমিকে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করে। এই বিলে নিষিদ্ধ করা হয় মাছ ধরা ও জলজ উদ্ভিদ আহরণ।

সরেজমিনে জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে এদের মধ্যে অনেকে পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িত। বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও মাছ ও পাখি শিকার বন্ধ হচ্ছে না। রাতের আঁধারে মাছ শিকার করা হয়, একই সঙ্গে পাখি শিকারের জন্য ফাঁদ পাতানো হয়। যারা সংরক্ষিত বাইক্কা বিল দেখাশোনা করে তারাই পাখি ও মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত।

রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের বাসিন্দারা জানান, শীতের সময় বিশেষ জাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়। এসব ফাঁদে স্থানীয় পরিযায়ী পাখি আটকা পড়ে। মাছের চেয়ে পাখির দাম বেশি থাকায় পাখি শিকারে আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখি শিকারের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এসব পাখি লুকিয়ে বিক্রি করা হয়। পাখি কেনার জন্য আলাদা ক্রেতা আছে, তারা আবার লোকচক্ষুর আড়ালে ক্রয় করে। এ ছাড়া বিষটোপ ও এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, একেক দিন একেক শিকারি ২০-৩০ কেজি পাখি শিকার করে। শিকারিরা বলেছে, তাদের কাছে পাখি শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ রয়েছে। সকাল ও বিকেলে বেশি পাখি ফাঁদে আটকা পড়ে। শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পাখি শিকার করে তারা বিক্রি করে। বিশেষ করে বাইক্কা বিল হাওর এলাকা থেকে পাখি শিকার করা হয়।

বাইক্কা বিলের দায়িত্বে থাকা বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, এ বছর সংরক্ষিত বাইক্কা বিলে পাখি কিছুটা কম এসেছে। তবে এখনো পাখি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে কয়েক বছর আগে পাখির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি ছারওয়ার বলেন, ‘আমরা বাইক্কা বিলে অভিযান পরিচালনা করব। যারা পাখি শিকার করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেটের (সদর দপ্তর মৌলভীবাজার) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘যারা পাখি শিকার করে আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে ৩০ হাজার বর্গফুট পাখি ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগের মতো পরিযায়ী পাখি না আসার কয়েকটা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পাখিরা আগের মতো নিরাপদ মনে করে না। বিলগুলোর গভীরতা কমে গেছে।’

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য বন বিভাগকে জানানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

‘চাইলে বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আচরণ অনুসরণ করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন বলির পাঁঠা’

নিখোঁজ এনসিপি সদস্য ওয়াসিমের সন্ধান মিলল মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত