মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে পরিযায়ী পাখি শিকার চলছেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনরাত নির্বিচারে পাখি শিকার করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না শিকারিদের ব্যাপারে। এ দিকে অতীতের তুলনায় এসব এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমন কমেছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলের মানুষের সকালের ঘুম ভাঙত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দে আর সন্ধ্যা হতো আকাশে ওড়া পাখি দেখে। তবে এই চিত্র মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে। এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে অতিরিক্ত পাখি শিকার ও মৎস্যনিধনকে। বলা হচ্ছে, হাওরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিরা আগের মতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। একই সঙ্গে নিরাপদ আবাসস্থলের তীব্র অভাব রয়েছে।
বাইক্কা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০০৩ সালের ১ জুলাই ১০০ হেক্টর জলাভূমিকে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করে। এই বিলে নিষিদ্ধ করা হয় মাছ ধরা ও জলজ উদ্ভিদ আহরণ।
সরেজমিনে জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে এদের মধ্যে অনেকে পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িত। বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও মাছ ও পাখি শিকার বন্ধ হচ্ছে না। রাতের আঁধারে মাছ শিকার করা হয়, একই সঙ্গে পাখি শিকারের জন্য ফাঁদ পাতানো হয়। যারা সংরক্ষিত বাইক্কা বিল দেখাশোনা করে তারাই পাখি ও মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত।
রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের বাসিন্দারা জানান, শীতের সময় বিশেষ জাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়। এসব ফাঁদে স্থানীয় পরিযায়ী পাখি আটকা পড়ে। মাছের চেয়ে পাখির দাম বেশি থাকায় পাখি শিকারে আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখি শিকারের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এসব পাখি লুকিয়ে বিক্রি করা হয়। পাখি কেনার জন্য আলাদা ক্রেতা আছে, তারা আবার লোকচক্ষুর আড়ালে ক্রয় করে। এ ছাড়া বিষটোপ ও এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, একেক দিন একেক শিকারি ২০-৩০ কেজি পাখি শিকার করে। শিকারিরা বলেছে, তাদের কাছে পাখি শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ রয়েছে। সকাল ও বিকেলে বেশি পাখি ফাঁদে আটকা পড়ে। শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পাখি শিকার করে তারা বিক্রি করে। বিশেষ করে বাইক্কা বিল হাওর এলাকা থেকে পাখি শিকার করা হয়।
বাইক্কা বিলের দায়িত্বে থাকা বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, এ বছর সংরক্ষিত বাইক্কা বিলে পাখি কিছুটা কম এসেছে। তবে এখনো পাখি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে কয়েক বছর আগে পাখির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি ছারওয়ার বলেন, ‘আমরা বাইক্কা বিলে অভিযান পরিচালনা করব। যারা পাখি শিকার করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেটের (সদর দপ্তর মৌলভীবাজার) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘যারা পাখি শিকার করে আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে ৩০ হাজার বর্গফুট পাখি ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগের মতো পরিযায়ী পাখি না আসার কয়েকটা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পাখিরা আগের মতো নিরাপদ মনে করে না। বিলগুলোর গভীরতা কমে গেছে।’
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য বন বিভাগকে জানানো হবে।

মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে পরিযায়ী পাখি শিকার চলছেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনরাত নির্বিচারে পাখি শিকার করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না শিকারিদের ব্যাপারে। এ দিকে অতীতের তুলনায় এসব এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমন কমেছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলের মানুষের সকালের ঘুম ভাঙত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দে আর সন্ধ্যা হতো আকাশে ওড়া পাখি দেখে। তবে এই চিত্র মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে। এর মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে অতিরিক্ত পাখি শিকার ও মৎস্যনিধনকে। বলা হচ্ছে, হাওরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিরা আগের মতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। একই সঙ্গে নিরাপদ আবাসস্থলের তীব্র অভাব রয়েছে।
বাইক্কা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০০৩ সালের ১ জুলাই ১০০ হেক্টর জলাভূমিকে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘অভয়াশ্রম’ ঘোষণা করে। এই বিলে নিষিদ্ধ করা হয় মাছ ধরা ও জলজ উদ্ভিদ আহরণ।
সরেজমিনে জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে এদের মধ্যে অনেকে পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িত। বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও মাছ ও পাখি শিকার বন্ধ হচ্ছে না। রাতের আঁধারে মাছ শিকার করা হয়, একই সঙ্গে পাখি শিকারের জন্য ফাঁদ পাতানো হয়। যারা সংরক্ষিত বাইক্কা বিল দেখাশোনা করে তারাই পাখি ও মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত।
রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের বাসিন্দারা জানান, শীতের সময় বিশেষ জাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হয়। এসব ফাঁদে স্থানীয় পরিযায়ী পাখি আটকা পড়ে। মাছের চেয়ে পাখির দাম বেশি থাকায় পাখি শিকারে আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখি শিকারের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এসব পাখি লুকিয়ে বিক্রি করা হয়। পাখি কেনার জন্য আলাদা ক্রেতা আছে, তারা আবার লোকচক্ষুর আড়ালে ক্রয় করে। এ ছাড়া বিষটোপ ও এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, একেক দিন একেক শিকারি ২০-৩০ কেজি পাখি শিকার করে। শিকারিরা বলেছে, তাদের কাছে পাখি শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ রয়েছে। সকাল ও বিকেলে বেশি পাখি ফাঁদে আটকা পড়ে। শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পাখি শিকার করে তারা বিক্রি করে। বিশেষ করে বাইক্কা বিল হাওর এলাকা থেকে পাখি শিকার করা হয়।
বাইক্কা বিলের দায়িত্বে থাকা বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিন্নত আলী বলেন, এ বছর সংরক্ষিত বাইক্কা বিলে পাখি কিছুটা কম এসেছে। তবে এখনো পাখি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে কয়েক বছর আগে পাখির সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি ছারওয়ার বলেন, ‘আমরা বাইক্কা বিলে অভিযান পরিচালনা করব। যারা পাখি শিকার করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেটের (সদর দপ্তর মৌলভীবাজার) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ‘যারা পাখি শিকার করে আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে ৩০ হাজার বর্গফুট পাখি ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগের মতো পরিযায়ী পাখি না আসার কয়েকটা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পাখিরা আগের মতো নিরাপদ মনে করে না। বিলগুলোর গভীরতা কমে গেছে।’
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য বন বিভাগকে জানানো হবে।

শূন্য ভিটার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বসতঘরের অবকাঠামো। নেই বেড়া, ছাউনি। বৃষ্টির পানিতে ভিটার মাটি ধুয়ে সমতলে মিশে গেছে অনেক আগে। এসব ঘরে এখন আর মানুষ বসবাস করে না। এমন দৃশ্য নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চর আতাউরের গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর।
১ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের জলাতঙ্ক ইউনিটের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সাঁটানো একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইনজেকশন-র্যাবিস ভ্যাকসিন’ এবং ‘ইনজেকশন-আরআইজি’ সরকারি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক খুনোখুনি থামছেই না। গত ১৬ মাসে উপজেলায় খুন হয়েছেন ১৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং একজন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী।
২ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাঁদের উদ্ধার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে