
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ফিশন বা পারমাণবিক বিক্রিয়ার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে সব কারিগরি পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হলো দেশের ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
আজ রোববার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরমাণুবিজ্ঞানী ড. মো. জাহেদুল হাছান আজকের পত্রিকাকে জানান, আজ বেলা সাড়ে ৩.৩৪ মিনিটে আনুষ্ঠানিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।
কবে নাগাদ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে—জানতে চাইলে জাহেদুল হাছান বলেন, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দিন এভাবে চলতে থাকবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাবে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে আরও একটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এই সফল বিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিউক্লিয়ার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় একটি অগ্রগতি- যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুরে পারমাণবিক এই বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি ধাপে প্রথমে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়। এ সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তারও পরীক্ষা হবে।
নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০-৪০ দিন লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এই ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চালু করা হবে টারবাইন। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ। এর কয়েক দিন আগে বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে নিতে হবে আরও দুটি অনুমোদন।
শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হতে পারে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। এ অবস্থায় চলতি বছরের মধ্যে এখনকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (আরএনপিপি)। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রুশ ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়।
প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়ার ঋণ ও অবশিষ্ট অংশ বাংলাদেশের অর্থায়নে বহন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। এর আগে ২০১৩ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ইতিমধ্যে অন্তত চার ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

পরিদর্শনকালে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জানালার যেভাবে সংস্কার করা হচ্ছে, এর চেয়ে অনেক ভালো কাজ ছোটখাটো যেকোনো ওয়ার্কশপেও করা সম্ভব। আপনার নিজের বাড়ির জানালার সংস্কারকাজ হলে কি এভাবে অবহেলাভরে কাজ করতেন?’
২৬ মিনিট আগে
মহড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি মোকাবিলা, আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনায় করণীয় বিষয়ে অংশ নেয়। উপজেলা সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা মহড়ায় সহযোগিতা করেন।
১ ঘণ্টা আগে
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত প্রথম প্রকল্প হিসেবে রূপপুরে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কেটের ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল। এসব পণ্যের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় সেগুলো সরিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে