Ajker Patrika

বৃহস্পতি-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির খুচরা বিক্রি বন্ধ ঘোষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ০৬
বৃহস্পতি-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির খুচরা বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কমিশন বাড়ানো, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান।

সেলিম খান বলেন, ‘১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও ১৬ অক্টোবর শুক্রবার—এই দুই দিন আমাদের সারা দেশে সব গ্যাসের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’ এই দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে পরে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানার নামে হয়রানি বন্ধ করা।’

সেলিম খান বলেন, পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন খরচ, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানোর খরচ, গুদামভাড়া ও লাইসেন্স ফি বেড়েছে। এসব কারণে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে বিইআরসিকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছিল, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার আনতে ৫০ টাকা খরচ হয়। সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে আরও ৩৫ টাকা লাগে। কর্মচারীর বেতন, গুদামভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ ২৫ টাকা। এর সঙ্গে ৪০ টাকা মুনাফা ধরে সিলিন্ডারপ্রতি ১৫০ টাকা কমিশন দাবি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান অভিযোগ করেন, বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করলেও কিছু কোম্পানি পাঁচ থেকে সাত দিন পর আবার দাম পরিবর্তন করে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো মাসে একাধিকবার দাম পরিবর্তন করতে চাইলে বিইআরসির মাধ্যমেই তা ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

এলপিজির সরবরাহ সংকটের কথা তুলে ধরে সেলিম খান বলেন, বর্তমানে ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি ছাড়া বেশির ভাগ কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক কোম্পানি ঋণপত্র খুলতে না পারায় সারা দেশে কয়েক লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব সিলিন্ডার সরকারি উদ্যোগে অথবা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারিও প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক ও দাবি পূরণের আশ্বাসে ওই দিন বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে; কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মিলছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত