Ajker Patrika

এমপির ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি বিএনপি কর্মীর

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
এমপির ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি বিএনপি কর্মীর
সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। গতকাল শুক্রবার রাতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি এমপিকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন।

হুমকি দেওয়া ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিনি তারাকান্দা থানার আটাদার এলাকার সোহরাব হোসেন। তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।

ভিডিওতে মুহাম্মদুল্লাহর উদ্দেশে সোহরাব বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নিয়ে কথা বললে এমপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং পুনরায় রাস্তায় নামলে তাঁর অবস্থা খারাপ করে দেওয়া হবে। বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আগে বিষয়টি শুনেছিলাম, তবে এইমাত্র ভিডিওটি দেখলাম। এখন কীভাবে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটি জানতে থানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলব।’

হুমকির কারণ সম্পর্কে সংসদ সদস্য বলেন, ‘এটা মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। তারা উসকানি দিয়ে ঝগড়াবিবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। কেউ তাদের সঙ্গে এসব করতে যাচ্ছে না বলে তারা এমন আচরণ করছে।’

ভিডিওতে মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম উল্লেখের বিষয়ে এমপি বলেন, ‘ভিডিওতে সরাসরি বলা হয়েছে, তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে ফেলবে। বিষয়টি বোঝার আর কিছু নেই। অনেকে আমাকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে তালুকদার সাহেবের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গেছে।’

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত কি না জানতে চাইলে এই এমপি বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। আল্লাহ যখন মৃত্যু লিখে রেখেছেন, তখনই হবে। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই আইনের আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে ভালো মনে করছি।’

ভিডিওতে নিজের নাম উল্লেখ হওয়া প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জের।’ তিনি বলেন, ‘যে ছেলেটার বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, আমারও কোনো বিষয় নয়।’ ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ওই ব্যক্তিকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলেছেন বলেও জানান।

সোহরাবের দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দলে তার কোনো পদ নেই। আমাদের সংগঠনের কোথাও তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপির প্রতিনিধি থানায় এসেছিলেন। আমরা জিডি করার পরামর্শ দিয়েছি। প্রয়োজন হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত