Ajker Patrika

নারীপক্ষের মতবিনিময় সভায় বক্তারা

যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৯
যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি
‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যৌনকর্ম, মানব পাচার ও যৌন শোষণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যৌনকর্ম মানেই পাচার নয়। যৌনকর্মীদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) নারীপক্ষ আয়োজিত ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারীপক্ষ কার্যালয়ে ‘নাসরীন হক সভাকক্ষে’ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার সঙ্গে মানব পাচার বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই। যৌনকর্মের সঙ্গে মানব পাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যাঁরা বিভিন্ন কারণে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা প্রয়োজন। মানুষ হিসেবে তাঁদের মানবাধিকার ও নাগরিক হিসেবে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

যৌনকর্মের সংজ্ঞা তুলে ধরে জান্নাত হুসনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যৌনকর্ম বলতে সম্মতিদানকারী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে বোঝানো হয়। এ ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারী ও সেবা প্রদানকারী—উভয়কেই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং দুজনের সম্মতি থাকতে হবে। সম্মতির বাইরে জোরপূর্বক যৌনসেবা গ্রহণ, শোষণ ও নিপীড়নের মতো বিষয়গুলো যৌন শোষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্বের প্রশ্নে আমার সঙ্গে একজন যৌনকর্মী নারীর অবস্থান একই। আমরা দুজনই এই দেশের নাগরিক। তাই আমাদের অবস্থান যখন এক, তখন আমাদের আন্দোলনেও একে অপরের পাশে থাকা উচিত। আমাদের পরস্পরের সহযোদ্ধা হওয়া প্রয়োজন। যৌনকর্মীদের একটি বিশেষ পরিচয়ের মধ্যে আটকে রেখে তাঁদের সব সময় অপরাধপ্রবণ হিসেবে দেখা হয়। মনে করা হয়, যৌনকর্মীরাই সবচেয়ে খারাপ বা অন্যায় কাজ করেন, তাঁরাই অপরাধী। সমাজে কলঙ্ক ও নেতিবাচকতার যত অপবাদ আছে, তার অনেকটাই যৌনকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সমাজে আরও অনেক বড় বড় অপরাধ ঘটে, সেগুলো নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। আমরা মনে করি, সবার আগে যৌনকর্মীদের একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।’

সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচকেরা বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে যৌনকর্মে যুক্ত করা যাবে না। শিশুদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। মানব পাচার ও যৌন শোষণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি, নিপীড়ন এবং সম্মতির অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই যৌনকর্ম ও এসব অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত