Ajker Patrika

অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪৪
অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার
অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের গ্রেপ্তার হওয়া চার সদস্য। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন জুয়া (বেটিং) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখা।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), শেখ সাকির আহম্মেদ ও মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, এসব অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাবগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ নানা যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তা বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।

সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরবর্তীকালে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাইবার মনিটরিং সেলে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি চক্রের জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীকালে রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি আরও জানায়, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের মূল হোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত