Ajker Patrika

ভোলার মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের রুল

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের রুল
ফাইল ছবি

ভোলার মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন।

মহিবুল্লাহ খোকন বলেন, ‘ভোলা একটি গ্যাসে পরিপূর্ণ জেলা। সেখানে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। এটি নদীবেষ্টিত এলাকা। হাজার হাজার ড্রেজার দিয়ে ভোলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমি জেলার একজন বাসিন্দা ও আইনজীবী হয়ে বসে থাকতে পারি না।’

মহিবুল্লাহ খোকন আরও বলেন, ‘বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই আমি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। সেই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান এবং বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্টের যৌথ বেঞ্চ আজ রুলসহ একটি আদেশ দেন।’

রিট আবেদনকারী মহিবুল্লাহ খোকন বলেন, ‘ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মৌজায় মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ৩৯ দশমিক ৪৯ একর জমিতে অবস্থিত মেঘনা বালুমহাল-৩ ও ৪ ইজারা দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে এবং এর ভিত্তিতে ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু, চুক্তি সম্পাদনসহ গৃহীত সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এই রিট করা হয়েছে।’

রিট আবেদনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলার মনপুরা উপজেলা বাদে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াদুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জামিল হোসেন ওয়াদুদ, মহিষা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শহীদসহ ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদেশে ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত মেঘনা বালুমহাল দুটি থেকে অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর রেসপনডেন্টকে (বিআইডব্লিউটিএ ও বিভাগীয় কমিশনার) একটি কমিটি গঠন করে মেঘনা নদীর সঠিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করে বালুমহাল গেজেট থেকে অস্তিত্বহীন মেঘনা বালুমহাল-৩ ও ৪ স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। নদীভাঙন থেকে ভোলা জেলাকে রক্ষা করতে সব ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি অপসারণে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে নিয়োজিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত