Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়: আতঙ্কের জায়গায় হবে শিক্ষার নতুন ঠিকানা

  • জমি অধিগ্রহণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু।
  • ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য।
  • বদলে যাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ।
সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও 
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়: আতঙ্কের জায়গায় হবে শিক্ষার নতুন ঠিকানা
ছবি: সংগৃহীত

একসময় সন্ধ্যা নামলে যে সড়কে থেমে যেত মানুষের চলাচল। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের ভয়ে অন্ধকার নামার আগেই দোকানপাট গুটিয়ে ফেলতেন ব্যবসায়ীরা। পথচারীদের জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ছিল নিয়মিত। সেই সড়কের ভাতার মারি রেলক্রসিং এলাকায় তৈরি হচ্ছে উচ্চশিক্ষার নতুন ঠিকানা ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।

গত সোমবার পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও সড়কের ভাতার মারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে দীর্ঘদিনের ভয়-শঙ্কার জায়গাটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইসরাফিল শাহিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাতার মারি রেলক্রসিং এলাকাটি কয়েক দশক ধরে ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। মহেষালী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, বেলা গড়িয়ে রাত হলেই প্রাণভয়ে এই সড়ক নিস্তব্ধ হয়ে যেত। কয়েক যুগ ধরে ডাকাতেরা পথচারীদের জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নিত। তাদের কবলে পড়ে বেশ কয়েকজনের প্রাণ গেছে, পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। এ কারণে সন্ধ্যার পর মানুষ এই সড়কে চলাচল বন্ধ করে দিত।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এলাকায় প্রথম চায়ের দোকান দেওয়া ৪৫ বছর বয়সী মর্জিনা বেগম জানান, ডাকাতের ভয়ে সন্ধ্যার পরপরই মালামাল নিয়ে দোকান গুটিয়ে চলে যেতেন। এখন এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শুনে তাঁর মনে শান্তি এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে নির্ভয়ে ব্যবসা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে বদলে যাবে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীন বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরুর লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ভাতার মারি এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে সেখানে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত