Ajker Patrika

স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৪
স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ
স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে পিন্টু দাস। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরে পরিবারের তিন সদস্যসহ এক ব্যবসায়ীর খোঁজ মিলছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাস নামে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে গেছেন এ নিয়ে এলাকায় চলছে জোর আলোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন পিন্টু দাস। তিনি স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা ধার দিতেন। পুলিশও তাঁর ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।

আজ বুধবার পিন্টু দাসের স্বজন ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে জানান, স্ত্রী রিমি, ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসকে নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন পিন্টু দাস। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আজ বাসায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার কারবারে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেকে।

শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলাম। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস আমাকে এক দিন পর যেতে বলেন। এরপর জানতে পারি, সপরিবারে তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

রাসেল খানের লিখিত অভিযোগের কপি পেয়েছে আজকের পত্রিকা।

শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরাও।

বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তাঁর কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত