Ajker Patrika

নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও করছাড়ের দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ১৮: ২৩
নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও করছাড়ের দাবি
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বি-স্ক্যান ও সমতার বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, করছাড় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বি-স্ক্যান ও সমতার বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠন দুটি। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান) উদ্যোগে এবং সাইটসেভার্সের ‘সমতার বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ভাতা বৃদ্ধি ও উপবৃত্তি, ১ হাজার কোটি টাকার উদ্যোক্তা তহবিল, প্রতিবন্ধী বেকার বিমা চালু, করমুক্ত আয়সীমাসহ মোট সাত দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি তুলে ধরে বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ জরুরি। তাঁরা প্রতিবন্ধিতার মাত্রা অনুযায়ী মাসিক ভাতা সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি কমপক্ষে ৩ লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা শিক্ষা উপবৃত্তি চালু এবং ভাতা ও উপবৃত্তি একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ উদ্যোক্তা তহবিল গঠনের দাবিও জানানো হয়।

বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া ২০০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন, এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই কোটা পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ দিয়ে একটি তহবিল গঠন করে সেখান থেকে ৫০ হাজার কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী যুবককে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বেকার বিমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের মতো প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদেরও ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড় সুবিধা এবং আগে চালু থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতার করছাড় পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ আরও বলেন, নিবন্ধিত ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে গুরুতর প্রতিবন্ধী অন্তত ৪০ হাজার ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত সহায়তাকারী নিয়োগে মাসিক ৬ হাজার টাকা হারে ভাতা চালু করতে হবে। এ জন্য ২৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত ৫০টি সহায়ক উপকরণের ওপর শুল্ক ও আমদানি কর প্রত্যাহার, তামাকজাত পণ্যে ১ শতাংশ ‘ডিজঅ্যাবিলিটি সারচার্জ’ আরোপ এবং সেই অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক উপকরণে ব্যয়ের দাবি জানানো হয়।

প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলার গণস্থাপনার অ্যাকসেস অডিট ও সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, এই কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি ও ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন ফি শতভাগ মওকুফের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিপসের সহসভাপতি মাসুদ আনোয়ার খান মিরাজ, এপিপিইউএসের সভাপতি লিয়াকত আলী, সালমা মাহমুদ, জাকির হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং সব মন্ত্রণালয়ে প্রতিবন্ধী-সংবেদনশীল বাজেট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত