Ajker Patrika

গোপালগঞ্জের মানুষ বাগেরহাট শাসন করেছে, কিন্তু কিছুই দিয়ে যায়নি: ডেপুটি স্পিকার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মানুষ বাগেরহাট শাসন করেছে, কিন্তু কিছুই দিয়ে যায়নি: ডেপুটি স্পিকার
গতকাল রাতে বাগেরহাট জেলা পরিষদ সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘বাগেরহাট অত্যন্ত অবহেলিত একটি জেলা—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। স্বৈরাচারের আমলে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বাতির নিচে অন্ধকারের মতো অবস্থা ছিল।

ফ্যাসিবাদের ১৫-১৭ বছরে গোপালগঞ্জের মানুষ এসে বাগেরহাট শাসন করেছে, কিন্তু জেলার জন্য কিছুই দিয়ে যায়নি। আমরা এখন বাগেরহাটের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে বাগেরহাট অফিসার্স ফোরামের আয়োজনে জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব নীতিনির্ধারণের কাজ করে, আর স্থানীয় প্রশাসন সেই নীতির বাস্তবায়ন করে। এই দুই পক্ষের সমন্বয় হলে সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, প্রশাসন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে বাগেরহাটসহ সারা দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। বাগেরহাট অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন, বাগেরহাট অফিসার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সচিব মো. জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, সরকারি বিএল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, একের পর এক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। বাগেরহাটের উন্নয়নের স্বার্থে খুলনা-মোংলা মহাসড়ক প্রশস্ত করা, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু করা জরুরি। পরে ডেপুটি স্পিকার বাগেরহাট সার্কিট হাউসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে তিনি সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মরহুম বাদল মোড়লের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে আড়পাড়া গ্রামে বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘কৃষক দলের নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। হত্যাকারী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন রাতে বারুইপাড়া থেকে মোটরসাইকেলে ফকিরহাট যাওয়ার পথে নিয়তির মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল। পরদিন ১০ জুন বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত