Ajker Patrika

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: দিন যত যাচ্ছে, আমরা হতাশ হচ্ছি—বললেন বাবা ও স্বামী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ২০: ১২
ইবি শিক্ষিকা হত্যা: দিন যত যাচ্ছে, আমরা হতাশ হচ্ছি—বললেন বাবা ও স্বামী
ইবি শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে কুষ্টিয়া হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস, জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, কুষ্টিয়া জেলা হাব এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানবাধিকারকর্মী মমতাজ আরা বেগম। এ সময় নিহত আসমা সাদিয়ার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, বাবা স ম আশিকুল হক রুহুল, মামা রফিকুল ইসলাম ও চার শিশুসন্তান উপস্থিত ছিল। এতে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা হাব ও কুষ্টিয়া হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস স্টেয়ারিং কমিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান লাকী, মানবাধিকারকর্মী সালমা সুলতানা, রফিকুল ইসলাম, এম এ কাইয়ুম, আব্দুর রাজ্জাক, ফেরদৌসি রুবি ও নিহত শিক্ষিকার বড় মেয়ে তাইয়েবা।

নিহত শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, রুনা হত্যার ঘটনা কয়েক দিন পার হয়ে গেছে। এই সময়ে পুলিশের ভূমিকায় তাঁরা হতাশ। পরিবারের সদস্যরা বলেন, যে কর্মচারী রুনাকে হত্যা করেছে, তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় আসামি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া আসামির বাড়ি থেকেও খাবার দেওয়া হচ্ছে। রুনা হত্যার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ করলেও পুলিশ সে বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।

নিহত শিক্ষিকার বাবা ও স্বামী বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে, আমরা হতাশ হচ্ছি। রুনা চলে যাওয়ায় তার চার শিশুসন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আগামী দিনে কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চিন্তিত।’

প্রতিবাদ সভায় অন্য বক্তারা শিক্ষিকা হত্যায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষক রুনার চার শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জায়েদুল হক মতিন।

এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানও নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। মামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার সত্যতা জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন এবং মামলার আসামি দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

লেবানন সীমান্তে হামলায় কলিজা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ইসরায়েলি মন্ত্রীর ছেলের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত