Ajker Patrika

সরকারি আম ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
সরকারি আম ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
সরকারি গাছ থেকে আম পাড়া হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রায় ৩০টি গাছের আম এবারও ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন, প্রতিবছরই আম বিক্রি না করে এভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। তবে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এভাবে সরকারি আম খাওয়ার সুযোগ নেই। প্রকাশ্যে নিলামে এই আম বিক্রির পর সেই টাকা উপজেলা পরিষদের তহবিলে জমা করাটাই নিয়ম।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর গাছে আম পাকলে ছুটির দিনে তা নামানো হয়। এরপর আম নেওয়া হয় ইউএনওর বাংলোয়। সেখানে অফিসার্স সমিতির মাধ্যমে আম ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। কেউ কেউ আবার সেই আম আত্মীয়স্বজনদের কাছেও পাঠান। এবারও শুক্রবার সকাল থেকে আম নামানো হয়েছে। একটি আমও এলাকার কাউকে দেওয়া হয় না।

শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দপ্তরের সামনে আম গাছ রয়েছে। ছোট-বড় প্রায় ৩০টি গাছ আছে। কয়েকজন কর্মচারী আম পাড়ছেন। তাঁরা জানান, আম নামিয়ে ইউএনওর বাংলোয় নেওয়া হবে। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ করে নেবেন। ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের নির্দেশে গাছ থেকে আম নামানো হচ্ছে বলেও তাঁরা জানান।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিবছর অফিস ছুটির দিনগুলোতে আম নামানো হয়। চলতি মৌসুমেও একইভাবে আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু গাছের আম নামিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে। শুক্রবারও ভোর থেকে আম নামানো শুরু হয়। তাঁরাও এ দিন বড় বড় গাছ থেকে হিমসাগর আম নামাতে দেখেছেন। আম পাড়ার সময় স্থানীয়দের কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা জামিলুর রহমান বলেন, ‘সব গাছে এবার প্রায় ৫০ মণ আম এসেছিল। কিছু আম আগেই নামানো হয়েছে। কিছু শুক্রবার নামানো হয়েছে। আরও কিছু গাছে আম আছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ভাগাভাগি করা ঠিক নয়। আমগুলো দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়া উচিত ছিল। আর যদি বিক্রি করা না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বা এতিমখানার শিশুদের মধ্যেও বিতরণ করা যেতে পারে। কিন্তু এখানে একটি আমও কাউকে দেওয়া হয় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগ করে নেন।’

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি গাছের আম এভাবে নামিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করার সুযোগ নেই। গাছে মুকুল আসার পর কিংবা আম পাকার সময় এগুলো প্রকাশ্যে নিলাম করতে হয়। যিনি সর্বোচ্চ দাম দেন তাঁর কাছ আম বিক্রি করতে হয়। তারপর সেই টাকা উপজেলা পরিষদের তহবিলে জমা করতে হয়। ভাগ-বাঁটোয়ারা করা যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাটের ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এই আম কখনো বিক্রি করা হয় না। এখানে যারা অফিসার আছে, যারা কোয়ার্টারে থাকে, যারা কর্মচারী আছে তাদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়।’ সরকারি গাছের আম প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করার কথা কি না—জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘না, এটা বিক্রি করার কথা না। এটা এই রকমভাবেই চলে আসছে, ঠিক আছে? বহু বছর ধরেই এটা এইভাবেই হয়ে আসছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত