জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশ এখনো বুঝে পায়নি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ঠিকাদারেরাও পুরোদমে কাজ করতে পারছেন না। এতে প্রকল্পের মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রশস্ততা সম্প্রসারণ করতে প্রায় ১ হাজার ৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা দরকার। এর মধ্যে ৭ জেলায় ৮২৯ দশমিক ৮ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্প কর্তৃপক্ষ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (২৭৭ দশমিক ২৫ একর) জমির দখল বুঝে পেয়েছে।
সাতটির মধ্যে যেসব জেলায় বেশি পরিমাণ জমি দরকার, সেখানেই তুলনামূলকভাবে কম জমি বুঝে পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নরসিংদীতে ১৫৮ দশমিক ০৩ একরের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৩৫ একর, হবিগঞ্জে ৩০২ দশমিক ৮৯ একরের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৭৫ একর এবং সিলেটে ২৫৪ দশমিক ৯৫ একরের মধ্যে মাত্র ৪৮ দশমিক ৫৬ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পূর্ণ জমি, মৌলভীবাজারে প্রায় পুরো জমি এবং নারায়ণগঞ্জে ৮০ শতাংশ জমির দখল পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনবলসংকট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে জটিলতার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। গণবিজ্ঞপ্তির পর জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তি নিষ্পত্তিতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে।
প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি জটিলতা রয়েছে হবিগঞ্জ ও সিলেটে। জমি বুঝে না পাওয়ায় সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো পরিষেবার লাইন সরানো যাচ্ছে না।
গত মার্চে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে সড়কের নির্ধারিত পথে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা থাকায় এবং নোটিশের পর অসংখ্য আপত্তি ওঠার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে। হবিগঞ্জ ও সিলেটের সমস্যা হচ্ছে জমির শ্রেণিগত অসংগতি, অধিগ্রহণ শাখায় জনবলসংকট, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের পদ শূন্য থাকা এবং কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি। অধিগ্রহণ প্রস্তাব জমার পর নারায়ণগঞ্জে ৯ বার, নরসিংদীতে ১৪ বার, হবিগঞ্জে ৯ বার এবং সিলেটে ১১ বার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়াও প্রকল্পের কার্যক্রমের গতি ধীর করে দেয়।
জমি অধিগ্রহণে বিলম্বে পুরো প্রকল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল করিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখনকার বড় দুই চ্যালেঞ্জ জমি অধিগ্রহণ ও পরিষেবা লাইন সরানোর কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জমি সময়মতো না পেলে মূল সড়ক নির্মাণকাজ বিলম্ব হবে।’
ছয় লেনের এই মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ ও মূল সড়ক নির্মাণকে দুটি পৃথক প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের মেয়াদ শুরুতে ছিল ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল। পরে তা সংশোধন করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের তরফ থেকে ব্যয় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মহাসড়ক নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের ছয় প্যাকেজ ও ১৩ লটের সব কটিতেই ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে মূল সড়ক নির্মাণকাজ পিছিয়ে গেছে।
প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, জমি বুঝে পাওয়া প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া ৬৬টি সেতুর মধ্যে ৬২টি, ১৩টি ফ্লাইওভারের মধ্যে ৯টি এবং ৩০৫টি কালভার্টের মধ্যে ১৯৮টিতে কাজ চলমান। ১০০টির বেশি কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালকের কথা
মহাসড়ক নির্মাণকাজের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জমি না পেলে ঠিকাদার কাজ করবে কীভাবে? জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে।’
খরচ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৯ কিলোমিটার সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় বাড়ছে না। নতুন কিছু অবকাঠামো যুক্ত হওয়ার কারণে ব্যয় বাড়বে।
সড়কের প্রশস্ততা বাড়ার কারণে স্থানীয় যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেফ ক্রসিং, সেফ ইউটার্ন, আন্ডারপাস ও ওভারপাস যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে এসব নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে ব্যয় বাড়বে। তবে কত টাকা বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে সড়ক নির্মাণকাজের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে বর্ধিত ব্যয়ের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অংশ ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি এবং এডিবির ঋণ ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।
মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৮টি ওভারপাস, ২৬টি ফুটওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন ও ৮টি রাউন্ড অ্যাবাউট (গোলচত্বর) নির্মাণ করা হবে। মহাসড়কের মূল চার লেনের প্রস্থ হবে ৭ দশমিক ৩ মিটার এবং সার্ভিস লেনের প্রস্থ হবে সাড়ে ৫ মিটার।
সম্প্রতি ডিসি সম্মেলনে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভূমি অধিগ্রহণ একটি বড় সমস্যা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক করতে গিয়ে চার বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। আগামী দুই মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ শেষ করতে বলা হয়েছে।’
প্রকল্পটির সার্বিক বিষয়ে অভিমত চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রথমেই ভূমি অধিগ্রহণকে আলাদা ‘প্রি-প্রজেক্ট অ্যাকশন’ (প্রকল্প-পূর্ব কাজ) হিসেবে শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনে স্থায়ী ও দক্ষ এলএ সেল থাকা, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড, নির্ধারিত সময়ভিত্তিক জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখা এবং কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি কমানো দরকার। ভূমি অধিগ্রহণ, পরিষেবা ব্যবস্থা সরানো এবং নির্মাণকাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে না পারলে ভবিষ্যতেও বড় প্রকল্পে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।’

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত শেষে মামলা দায়ের—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ হয় আদালতে। আর ঠিক সেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই বড় দুর্বলতা রয়ে গেছে সংস্থাটির। আইনে থাকলেও দুই দশকেও নিজেদের প্রসিকিউশন...
১ ঘণ্টা আগে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের লাগেজ হ্যান্ডেলিং প্রক্রিয়ায় চুরি বা অবৈধ হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ...
৩ ঘণ্টা আগে
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েত...
৩ ঘণ্টা আগে
ডিএনডি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আজ বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধবিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে