Ajker Patrika

চট্টগ্রামে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের রাউজানে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের টের পেয়ে দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর ষোলোশহরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন এ তথ্য জানান।

এর আগে গত সোমবার রাতে রাউজানের দেওয়ানপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাউজান থানায় একটি ডাকাতির মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল এলাকার কবির হোসেন ওরফে জীবন (৪৬), একই জেলার মাধবপুরের বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মামুন মিয়া (৩০), মো. মিটু (২৮) ও মো. আশিক (৪২)।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার আলী আহম্মদ ওরফে মনু মিয়া (২৩), একই জেলার গোলাপগঞ্জের মনোয়ারুজ্জামান ইমন ওরফে শাকিল (২৭) এবং বি-বাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকার আবুল হোসেন (৩২)।

আর পলাতক দুজন হলেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও বাহুবল এলাকার বাসিন্দা ফজর আলী ওরফে ডিপজল ডাকাত (৩১) এবং আমিন আলী (৩৪)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহার, ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ডাকাতি ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর রাতভর পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় আসামিদের হেফাজত থেকে একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউনিয়নে বাড়িতে ডাকাতির আগে আসামিরা ওই দিন (১৭ মার্চ) সকালে সিলেট, হবিগঞ্জ ও বি-বাড়িয়া থেকে বাস ও ট্রেনে করে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান। দুজন আগে থেকেই চট্টগ্রামে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরে সন্ধ্যা নাগাদ তাঁরা আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেন।

পাহাড়তলী বাজারে চা-নাশতা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকেন। রাত ১টার দিকে ফজর আলী নামের একজন ডাকাত অন্য আসামিদের নিয়ে ইউসুফ মঞ্জিল নামের জনৈক আহমদ হোসেন বাবুলের বাড়ির কাছে পৌঁছান। বাড়ির বাইরে তিনজনকে পাহারায় রেখে অন্যরা সিঁড়িঘরের ওপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে বাড়িতে থাকা লোকজনকে জিম্মি করে অল্প সময়েই মোবাইল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে বের হয়ে আসেন।

পুলিশের দ্রুততা, পেশাদারত্ব ও সমন্বিত অভিযানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তজেলার সংঘবদ্ধ এই ডাকাত চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দোতলা বাড়িটির সিঁড়িঘরের ওপরের ফাঁকা স্থান দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রেখে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।

এর মধ্যে ফজর আলীর নামে ২৯টি, কবির হোসেন ওরফে জীবনের ১৩টি, আমিন আলীর নামে ১৩টি, মনোয়ারুজ্জামান ইমনের ১১টি ও মামুনের নামে ১০টি মামলা রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, পলাতক ফজর আলীর সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। মূলত ফজর আলী অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চট্টগ্রামে বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পটিয়ায় ৩ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত