Ajker Patrika

জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিল ছাত্রদল

পাবনা প্রতিনিধি
জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিল ছাত্রদল
জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে হট্টগোল করে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থ্যান দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রশাসন আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রোগ্রাম শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস উপলক্ষ্যে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শুরু হয়। এরপর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ৪ আগস্ট পাবনায় যুবলীগ-আওয়ামীলীগের গুলিতে শহীদ হওয়া শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদ।

এরপর ৪ আগস্টে আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের পিতাকে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ডাকলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বাইরে থেকে মিছিল নিয়ে কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করেন।

এরপর অনুষ্ঠানস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা লিপ্ত হয়।

ঘটনার একপর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন তাদেরকে থামার জন্য বললে ছাত্রদল কর্মী নিশানকে ওই শিক্ষকের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। এরপর উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পরে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তারা উপাচার্যকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে হট্টগোল করে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে হট্টগোল করে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে ‘স্বাধীনতা হল’ মসজিদের ইমাম মুফতি শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়।

তবে ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কর্মসূচিতে জুলাইয়ের ‘স্টেক হোল্ডারদের’ দাওয়াত না দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাখার কারণে তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন একজন জুলাই যোদ্ধার চেতনার প্রতীক। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনার যেসব সমন্বয়ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশান— কেউ আমন্ত্রণ পাননি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো না হলে সাকিব, মাসুম কীভাবে অনুষ্ঠানে এল? এমনকি হল ফিস্ট উপলক্ষে রাতের খাবারের জন্যও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফোন করে দাওয়াত দিয়েছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত