Ajker Patrika

রংপুরের গঙ্গাচড়া: মাদ্রাসার জমি ‘বন্ধক’ বিপুল টাকা লোপাট

  • অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ।
  • তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।
আব্দুর রহিম পায়েল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) 
রংপুরের গঙ্গাচড়া: মাদ্রাসার জমি ‘বন্ধক’ বিপুল টাকা লোপাট
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. শহীদুল ইসলাম মুন্সি ও মাহমুদুল ইসলাম সবুজ। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে বেতগাড়ী একরামিয়া বহুমুখী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জমি ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্তে কমিটির প্রতিবেদন এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. শহীদুল ইসলাম মুন্সি, তিনি উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি এবং মাদ্রাসার সভাপতি। অপরজন হলেন মাহমুদুল ইসলাম সবুজ, তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে শহীদুল ইসলাম মুন্সি মাদ্রাসার পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একইভাবে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল ইসলাম সবুজও মাদ্রাসার ১৮ শতক জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ৯ জুন বাদী-বিবাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরেজমিন তদন্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষীসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনোয়ারুল ইসলাম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্ত এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার জমি আবাদকারী একাধিক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে কমিটির কাছে কথা বলতে চান না।

জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় জমিসংক্রান্ত কোনো নথি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত কমিটি না হওয়া পর্যন্ত কাগজপত্র দেখাতে পারছি না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। অপর অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম মুন্সি বলেন, মাদ্রাসার কোনো জমি বন্ধক দেওয়া হয়নি। সব জমি নিয়ম অনুযায়ী বর্গা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবছর বর্গার অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়।

শহীদুল ইসলাম মুন্সি বলেন, ‘৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মো. মাহফুজার রহমান বলেন, আরও কিছু দাপ্তরিক নথি সংগ্রহের পর তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হবে।

ইউএনও জেসমীন আক্তার বলেন, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কিছু নথি তাঁদের দেওয়া হয়নি। তাই প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জমা দেওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত