Ajker Patrika

গজারিয়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
গজারিয়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
গজারিয়ার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা আহাজারি করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় রিনা আক্তার (৩২) নামে দুই সন্তানের এক জননীর মরদেহ তাঁর নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী সুমন সরকার পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিনা আক্তার মধ্যমকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস বাছেতের ছেলে সুমন সরকারের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পেশায় রংমিস্ত্রি সুমন সরকারের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে রিনার বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিন-চার বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। কখনো তা মারামারিতেও গড়াত বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সুমনের মা রুফিয়া বেগম বলেন, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সুমনের সঙ্গে রিনার কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা দুজনকে মিটমাট করে দেন। রাতে তাঁদের মধ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। সকালে সুমনের মেয়ে সিনহা কান্নাকাটি করতে থাকলে তিনি ঘরে গিয়ে রিনার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার রাতেও রিনা ও সুমনের মধ্যে মারামারি হয়। পরে প্রতিবেশীরা রিনাকে তাঁর ঘরে দিয়ে যান। গভীর রাতে কোনো একসময় তাঁকে হত্যা করে সুমন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি।

বাড়ির পাশের বাসিন্দা ও প্রবাসফেরত আলম বলেন, ‘কোনো দিন তাকে মসজিদে নামাজ পড়তে দেখিনি। আজ ফজরের নামাজ পড়ার পর সুমনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সে তাড়াহুড়ো করে চলে যায়।’

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত