
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের আকাশে তখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এক সকাল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হেনেছে দুটি ছিনতাই করা বিমান। আগুন, ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছেন শত শত মানুষ।
সেই ভয়াবহ দিনের অসংখ্য ছবির মধ্যে একটি ছবি আজও মানুষকে থমকে দেয়। ছবিতে দেখা যায়—আকাশ থেকে একজন মানুষ সোজা নিচে পড়ে যাচ্ছেন। দুই হাত শরীরের পাশে, একটি পা সামান্য বাঁকানো। সাদা পোশাক বাতাসে উড়ছে, পায়ে কালো জুতা। আশ্চর্যজনকভাবে ছবিতে তাঁকে আতঙ্কিত নয়, বরং স্থির ও প্রায় শান্ত দেখা যায়!
ছবিটির নাম হয়ে যায়—‘দ্য ফলিং ম্যান’ (The Falling Man)।
ছবিটি তুলেছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী রিচার্ড ড্রু। সেদিন তিনি অন্য একটি অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন। টাওয়ারে বিমান আঘাত হানার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন টাওয়ারের ওপর থেকে মানুষ নিচে পড়ছিলেন। ড্রু ২০০ মিলিমিটারের লেন্স দিয়ে একের পর এক তাদের ছবি তুলছিলেন। ‘ওই যে, আরেকজন!’ —কাছের মানুষদের এমন চিৎকার শুনলেই তাঁর ক্যামেরা আকাশে উঠে যেত।
সেই ধারাবাহিক ছবির একটি ফ্রেমই পরে পৃথিবীবিখ্যাত হয়ে ওঠে।
পরদিন ছবিটি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর পাতায় প্রকাশিত হয়। এরপর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অসংখ্য সংবাদপত্রে। কিন্তু খুব দ্রুত ছবিটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন, এটি একজন মৃত মানুষের মর্যাদা ও পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের প্রতি নির্মম আচরণ। যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্র ছবিটি একবার প্রকাশ করার পর আর ছাপেনি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও মানুষকে ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখানো বন্ধ করে দেয়।
কিন্তু প্রশ্নটি থেকে যায়—ছবির মানুষটি কে?
কানাডার সাংবাদিক পিটার চেনি ছবিটির মানুষটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। ছবিটি বিশ্লেষণ করে তাঁর মনে হয়, লোকটি হয়তো রেস্টুরেন্টের কর্মী। তিনি নিউইয়র্কের ‘Windows on the World’-এর কর্মীদের নিখোঁজ তালিকা খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নরবার্তো হার্নান্দেজ নামের এক কর্মীর পরিবারের কাছে ছবি নিয়ে যান। পরিবারের কয়েকজন প্রথমে মনে করেছিলেন, ছবির মানুষটি নরবার্তো।
কিন্তু নরবার্তোর স্ত্রী ও মেয়েরা তা মেনে নেননি। তারা জানতেন, নরবার্তো সেদিন কী পোশাক পরে কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন, তিনি নরবার্তোকে প্রতিদিন নিজ হাতে পোশাক পরাতেন। তাঁর পরনে ছিল নীল চেক শার্ট, নীল জিনস—আর রেস্টুরেন্টে বদলে নেওয়ার কথা ছিল নির্দিষ্ট কাজের পোশাক। কমলা রঙের টি-শার্ট তিনি পরেননি।
অথচ ‘Falling Man’-এর ছবির পরবর্তী ফ্রেমগুলোতে দেখা যায়, তাঁর সাদা পোশাকের নিচে একটি উজ্জ্বল কমলা পোশাক রয়েছে।
এখানেই আসে আরেকটি সম্ভাব্য নাম—জোনাথন ব্রাইলি। তিনিও ছিলেন Windows on the World-এর কর্মী। লম্বা, কৃষ্ণাঙ্গ, গোঁফ-দাড়ি ছিল। সাধারণত সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট ও কালো হাই-টপ জুতা পরতেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—তিনি প্রায়ই একটি কমলা টি-শার্ট পরতেন। তাঁর ভাইয়ের মনে পড়ে যায়, কমলা টি-শার্টটি নিয়ে তিনি প্রায়ই জোনাথনকে ঠাট্টা করতেন।
জোনাথনের মরদেহ পরে উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর ভাই জুতার মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু পোশাকের কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
তাহলে কি জোনাথন ব্রাইলিই সেই ‘Falling Man’?
নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না।
আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে গভীর অর্থ। একটি ছবিতে মানুষটি যেন তীরের মতো আকাশ ভেদ করে নিচে নামছেন। কিন্তু ছবির বাইরের সত্যটি ছিল আরও নির্মম—তিনি ছিলেন একজন মানুষ, যিনি হয়তো শেষ মুহূর্তে বাঁচার কোনো পথ খুঁজছিলেন।
ছবিটি আমাদের শুধু একজন অজ্ঞাত মানুষের পতন দেখায় না; দেখায় সেই দিনের অসহায়ত্ব, আতঙ্ক এবং মানুষের শেষ মুহূর্তের অজানা সিদ্ধান্ত।
সময়ের সঙ্গে ছবিটি যেন হারিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষটি হারিয়ে যাননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অজ্ঞাত মানুষের স্মারক। কে ছিলেন তিনি—জোনাথন ব্রাইলি, নরবার্তো হার্নান্দেজ, নাকি অন্য কেউ?
উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না।
তবু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটের কিছু পর রিচার্ড ড্রুর ক্যামেরায় বন্দী সেই এক মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ইতিহাস শুধু বিজয়ী কিংবা বীরদের ছবি দিয়ে তৈরি হয় না। কখনো কখনো একটি অচেনা মানুষের পতনও হয়ে ওঠে একটি যুগের সবচেয়ে গভীর প্রতিকৃতি।

ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল-জুড়ে প্রায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানপন্থী হুতি বাহিনীর যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ দখল করে। লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে সংকীর্ণ এ প্রণালী দিয়েই সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি করা হয়ে থাকে।
২১ মিনিট আগে
আন্তরাষ্ট্র সাইবার জালিয়াতি মোকাবিলায় চীনের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি আন্তর্জাতিক জোটের যাত্রা শুরু হয়েছে। চীনের পূর্বাঞ্চলীয় লিয়ানইউনকাং শহরে আয়োজিত উদ্বোধনী সম্মেলনে ৪৬টি প্রতিষ্ঠাতা দেশ, ৩৪টি পর্যবেক্ষক দেশ, জাতিসংঘ, ইন্টারপোলসহ চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন...
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের আগের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ভারতের
৪ ঘণ্টা আগে
আবারও আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
৫ ঘণ্টা আগে