Ajker Patrika

পর্যটন বিকাশে সুষ্ঠু কার্যক্রম নেই

হিমেল চাকমা, রাঙামাটি 
পর্যটন বিকাশে সুষ্ঠু কার্যক্রম নেই
কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে আছে ঝুলন্ত সেতু। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, সবুজ প্রকৃতি আর সুউচ্চ ঝরনার মোহনীয় রূপ—সব মিলিয়ে রাঙামাটিকে বলা হয় ‘পর্যটনের শহর’। কেবল অপরূপ প্রকৃতিই নয়, এখানকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সহজ-সরল জীবনধারা, ভেজালহীন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপদ্ধতি আর পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মন কাড়ে।

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি ঘিরে রাঙামাটিতে মেলাসহ নানা আয়োজন হচ্ছে। তবে রাঙামাটির পর্যটন খাতের চিত্রটি বেশ ধূসর।

রাঙামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘ঝুলন্ত সেতু’ দেড় মাসের বেশি সময় ধরে পানিতে ডুবে আছে। শুধু এবার নয়, প্রতিবছর বর্ষায় সেতুটি ডুবে যায়। সেতুটি উঁচুতে তোলার জন্য কোনো সরকারই উদ্যোগ নেয়নি। এ ছাড়া পানি শুকিয়ে গিয়ে রূপ হারাচ্ছে সুবলং ঝরনা। অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদের পাড় দখল করে শত শত বাড়িঘর গড়ে উঠছে। এতে ঢাকা পড়ছে হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য। এ ছাড়া এসব বাড়িঘরের বর্জ্য কাপ্তাই হ্রদের পানি দূষিত করছে। দিন দিন তলদেশ ভরাট হয়ে নীল হ্রদ ঘোলা জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে।

রাঙামাটিতে যেটুকু পরিবর্তন এসেছে, তার বেশির ভাগই স্থানীয় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায়। রান্যা টুগুন, জুমকিং, গাংপাড়, রেড়ান্নে, ইজোর, বার্গী লেক, রাঙাদ্বীপ ও নীলাঞ্জনার মতো নান্দনিক কেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। তবে কোনো সহায়তা চাইতে গেলে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ।

বার্গী লেক ভ্যালির পরিচালক সুমেত চাকমা বলেন, সরকারি কোনো সংস্থার কাছে ন্যূনতম সহযোগিতা চাইলে তারা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান বলে দায় এড়ায়। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ঘাট বা পাবলিক টয়লেটের মতো মৌলিক অবকাঠামো প্রয়োজন হলেও তা মিলছে না। অথচ প্রশাসনিক নানা কড়াকড়ি ঠিকই সইতে হয়।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যখন কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিচে নেমে যায়, তখন মানুষ হ্রদ দখলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ভূমির মালিকানা নিশ্চিত হলে এভাবে দখল করার সাহস পেত না মানুষ।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঝুলন্ত সেতু যেন আর না ডোবে, সে জন্য জেলা প্রশাসন পার্বত্য মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ ও পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে সভা করেছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এটি সরিয়ে নতুন ডিজাইন (নকশা) করে কাজটি করবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, এই পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও সার্বিক সহযোগিতা দিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত