Ajker Patrika

কাল উদ্বোধন হচ্ছে কৃষক কার্ড, টাঙ্গাইলে সাজ সাজ রব

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 
কাল উদ্বোধন হচ্ছে কৃষক কার্ড, টাঙ্গাইলে সাজ সাজ রব
টাঙ্গাইলে এখন সাজ সাজ রব। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হবে টাঙ্গাইল থেকে। আগামীকাল (পয়লা বৈশাখ) মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচি ঘিরে টাঙ্গাইল শহরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। অপর দিকে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের মানুষ সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর। এই ইউনিয়নের উৎপাদিত শস্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শস্য হচ্ছে ধান। এরপরেই পাটের স্থান। তারপর যেসব কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদন হয়ে থাকে সেগুলো হলো—গম, মাষকলাই, মসুর, আলু, সরিষা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, আদা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, উচ্ছে, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দুল, শিম, বরবটি, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, গোল আলু, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি। এ ছাড়া আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারকেল, সুপারি, জাম্বুরা, লেবু, তেঁতুল, কামরাঙা, জলপাই, বেল, ডালিম, আতা ইত্যাদি উৎপাদিত হয় ঘারিন্দা ইউনিয়নে।

সরকার কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষিজীবীদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পরিচিতি, আড়াই হাজার টাকা, ভর্তুকি, ঋণ, বীজ, সারসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। বর্তমান সরকারের এই কার্যক্রম টাঙ্গাইল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সর্বপ্রথম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া ব্লকের ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষককে এই কার্ড প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁদের তালিকা সম্পন্ন করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই কৃষকদের মধ্যে কিছুসংখ্যক কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড তুলে দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘারিন্দা ইউনিয়নের ২৩টি গ্রামে ৩১ হাজার ৭৪৯ জন বাসিন্দা রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৮৭ জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ৩৬২ জন নারী রয়েছেন। এঁদের অধিকাংশই কৃষিনির্ভর। যাঁরা অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পেরেছেন, তাঁরা কৃষি বিভাগসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। বাকিরা বঞ্চিত হয়েছেন। এবার সর্বাগ্রে প্রকৃত কৃষক বাছাই করে তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামের কিষানি জুলেখা বেগম। তাঁর বাড়ির চারপাশে বেগুন, ডাঁটা, মিষ্টি আলু, লাউ, চালকুমড়ার গাছে সবুজায়িত হয়ে আছে। তিনি বাড়ি আঙিনার সবজি বাগান পরিচর্যা করতে করতে বলেন, ‘আমি কোনো দিন কৃষি বিভাগের সুবিধা পাইনি। এবার আমারে কৃষক কার্ড দিব। এই কার্ড দিয়া বলে মেলা সুযোগ-সুবিধা পামু। প্রধানমন্ত্রী আমগরে এই কার্ড তুইলা দিবো। ভাবতেই আনন্দ লাগতাছে।’

একই ইউনিয়নের বরড়িয়া গ্রামের মো. আবু কায়সার একজন মাছচাষি। তিনি তাঁর নিজের এবং নিকটজনের তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে থাকেন। ১২-১৩ বছর হলো মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবার তিনি কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হলে অবশ্যই সকলেরই কল্যাণ হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অবশ্যই কৃষকদের লাভবান করবে।’

টাঙ্গাইলের কৃষি মেলার স্টল সাজাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন। ছবি: আজকের পত্রিকা
টাঙ্গাইলের কৃষি মেলার স্টল সাজাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘারিন্দা ইউনিয়নের জুলেখা-আবু কায়সারের মতো শত শত কৃষকের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। তাঁদের ধারণা কৃষি কার্ডের পুরোপুরি সুযোগ-সুবিধা পেলে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকেরা লাভবান হবে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলবাসী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের প্রস্তুতি দেখতে এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে “কৃষক কার্ড” একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পয়লা বৈশাখের মতো একটি দিনে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং নবান্নের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত