Ajker Patrika

রাজধানীর কদমতলীতে অটোরিকশাচালক ইমন হত্যার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রাজধানীর কদমতলীতে অটোরিকশাচালক ইমন হত্যার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফাইল ছবি

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কিশোর ইমন কাজী হত্যা মামলায় আসামি মোহাম্মদ আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামির হাজতবাসের সময় মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন কাজী। ওই দিন রাত ৯টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে গেন্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ মাপুর মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে চালকবিহীন অটোরিকশা ও এর ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগের সোনামাবিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন একটি পতিত জমির ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দী অবস্থায় ইমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা লিওন কদমতলী থানায় মামলা করেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আল-আমিন। ওই বছরের ৩০ মে সন্ধ্যায় তাকে ভাড়া বাসায় ডেকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দী করে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

২০২৩ সালের ৫ জুন বরিশালের হিজলা থানার গোবিন্দপুর খয়া গ্রাম থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানোর পর ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর ও ইমনের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এরপরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি ওয়ারী বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান খাঁন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২০ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত