Ajker Patrika

এক বিষয়ে ৫ বার ফেল, মেডিকেল শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’

কুমিল্লা প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১৯
এক বিষয়ে ৫ বার ফেল, মেডিকেল শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’
অর্পিতা নওশিন। ছবি: সংগৃহীত

অর্পিতা নওশিন (২২) নামের কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কলেজ হোস্টেলের কক্ষ থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠীদের অভিযোগ, নওশিন মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে নওশিন ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নওশিন কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা নগরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহপাঠী জানান, প্রথম বর্ষ থেকে নওশিন কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের রোষানলে পড়েন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও অ্যানাটমিতে অকৃতকার্য হন। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েও তিনি পাস করতে পারেননি। একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীরা পঞ্চম বর্ষে উঠলেও তিনি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন। জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

তদন্ত কমিটি

এদিকে ঘটনার পর আজ শনিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার আগেই একজন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। কারও অবহেলা বা দায় থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর ভাই মরদেহ নিয়ে গেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শখ ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করবে

‘অনেক শখ ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করবে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। সব শেষ হয়ে গেল। মেয়ের শখ পূরণে কষ্ট হলেও তাঁকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছি। ছোট মেয়ে হিসেবে যা আবদার করেছে, দিয়েছি। কিন্তু কী কারণে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলে এখনো বুঝতে পারছি না।’ আজ শনিবার বিকেলে খুলনা নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া সার্কুলার রোডের নিজ বাড়িতে বসে কথাগুলো বলছিলেন নওশিনের বাবা আনোয়ার হোসেন। একটু পরপর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের এমন কোনো মানসিকতা ছিল না যে সে আত্মহত্যা করবে। শিক্ষকের মানসিক চাপের কারণেই হয়তো সে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। নওশিন প্রায়ই অ্যানাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের (ডা. মনিরা জহির) কথা বলত। প্রথম বর্ষ থেকে তিনি আমার বোনকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য সবাইকে পাস করানো হলেও আমার বোন সব বিষয় পাস করেও শুধু ওই একটি বিষয়ে তাকে বারবার আটকে রাখা হয়েছে।’

শাহরিয়ার আরমান বলেন, ‘আমি একাধিকবার জানতে চেয়েছি, তার সমস্যাটা কোথায়; কিন্তু কোনো স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি। আমার বিশ্বাস, যাঁরা তাকে এভাবে মানসিক চাপ দিয়ে নিপীড়ন করেছেন, তাঁরাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। আমি ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহনগঞ্জে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা, আটক ১

প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদ দিন ৬ খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, মধ্যস্থতায় অনীহা কাতারের

অতীতে ইরানের হাতে আটক মার্কিন সেনাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে ‘বিপজ্জনক’ মিশনে মার্কিন বাহিনী, হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরানও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত