Ajker Patrika

হামের কাছে হারল ৫ মাসের সাইফান

ফেনী প্রতিনিধি
হামের কাছে হারল ৫ মাসের সাইফান
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা কাওছারের কোলে শিশু সাইফান। সম্প্রতি ঢাকার একটি হাসপাতালে। ছবি: সংগৃহীত

ফেনী সদরের মোহাম্মদ কাওছার ও ফৌজিয়া আক্তার ইভার ঘর আলো করে এসেছিল মোহাম্মদ সাইফান। পরিবারের প্রথম সন্তাকে নিয়ে বুনছিলেন কত স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২১ দিনের লড়াই শেষে হার মানে সাইফান। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় শিশুটির।

সাইফানের বয়স ছিল পাঁচ মাসের কিছু বেশি। অর্থাৎ নিয়মিত সূচির হামের টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকের ভারে এখন নির্বাক তার মা-বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ মার্চ জন্ম হয় সাইফানের। চলতি মাসের শুরুর দিকে তার শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। ফেনীর স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে চলছিল তার চিকিৎসা। ‘লুতি’ বা লালচে দানা ওঠার পর কয়েক দিন চিকিৎসা দেওয়ায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। পরে ৭ আগস্ট সকালে সাইফানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফেনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

পরে সাইফানকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ১৩ দিন চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। গত বুধবার রাতে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

সাইফানের বাবা সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওছার বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে আমার ছেলেকে ঢাকার মহাখালীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছিলাম। সেখানে হামের চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে পরপর দুবার খিঁচুনি হলে সাইফানের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতাসহ শরীরে আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়।’

কাওসার আরও বলেন, টানা ১৩ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল সাইফান। শেষ দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়। ২০ আগস্ট রাতে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর সেখানেই মারা যায় সাইফান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোহাম্মদ কাওছার আরও বলেন, ‘আমার সন্তানের মতো আর কোনো শিশু যেন হামে আক্রান্ত হয়ে এভাবে প্রাণ না হারায়। সে জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সরকারকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত