
নেত্রকোনায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। রিপন পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কয়েক বছর আগে থেকে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠোনে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে রিপন পালিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে জনপ্রিয়তা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন আগে থেকেই কিশোরীটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে।
সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে রিপনের বাড়িটি ভুক্তভোগীকে লিখে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি রিপন মিয়াকে এলাকা ছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালিসের কয়েকটি ভিডিও গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে হৈচৈ শুরু হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন রিপন মিয়া। একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়—‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবে...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ কথার একপর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন।
তবে ভিডিও প্রকাশের পর ওই দিন সকাল থেকেই আত্মগোপনে চলে যান কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।
বিষয়টি জানার পর নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি সালিসের লোকজনসহ এলাকাবাসীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরে রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোনা মডেল থানায় রিপনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এ বিষয়ে জানতে রিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার ও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে বিচার নিয়ে আসে। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই। পরে আমরা এলাকাবাসী মিলে সালিসে বসেছিলাম। তারপর বলেছি আইনি পদক্ষেপ নিতে। সালিসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে পুলিশ এ বিষয়ে কথা বলেছে।’
সালিসে উপস্থিত থাকা স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, ‘ওই সালিসে আমি তেমন কিছু বলিনি। রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে ওই সালিস বসেছিল। রিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই ওই কিশোরীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পাঁচ লাখ টাকা তাঁকে দিতে বলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় রিপনের বাড়ি ওই কিশোরীকে লিখে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।’
এদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। ওই ছাত্রীর আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনা জানার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। যদিও ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রিপন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।’
উল্লেখ্য, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে বেতগাড়ী একরামিয়া বহুমুখী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জমি ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্তে কমিটির প্রতিবেদন এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হয়নি বলে জানা গেছে।
৬ মিনিট আগে
মাদারীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। আজ বুধবার বিকেলে মাদারীপুর জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এই আদেশ দেন। এর আগে একই দিন দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর বাজার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের...
১ ঘণ্টা আগে
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় হামলার ঘটনায় শাহজাহান পাটওয়ারী (৪৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহজাহান মান্দারী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত মুকবুল হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি বিদেশফেরত।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাইয়ের সব শহীদ, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহত সবাই এবং আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে...
১ ঘণ্টা আগে