Ajker Patrika

দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির মারামারি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির মারামারি
দরপত্র জমা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির মারামারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি খেয়াঘাটের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের মারামারি হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বক্তাবলী ঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। মারামারিতে জামায়াতের অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে না পারলেও এনসিপির কর্মীরা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল আজ। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিলেন। তবে সকাল থেকে সদর উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী ও বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

বেলা ১টার দিকে জামায়াত ও এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধা দেন বিএনপির কর্মীরা। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির নেতা তাওহীদ প্রতিবাদ করলে তাঁকে ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকরকে মারধর করেন বিএনপির কর্মীরা। তাড়িয়ে দেওয়া হয় উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াত অনুসারীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই উপজেলার সামনে জড়ো হতে থাকেন এনসিপির কর্মীরা। বেলা আড়াইটায় ফের মারামারিতে জড়ান বিএনপি ও এনসিপির কর্মীরা। মারামারির একপর্যায়ে এনসিপির কর্মীরা বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার শিকার এনসিপি নেতা তাওহীদ বলেন, ‘সকাল থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটুর অনুসারীরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মারধর করে। আমি এবং জামায়াতের আমির আবু বকর আহত হই তাদের মারধরে। আমাকে মারধর করার খবর পেলে আমাদের কর্মীরা উপজেলায় জড়ো হয়। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ফের উসকানি দিয়ে মারামারিতে জড়ায়।’

বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর বলেন, ‘এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি মারধরের শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোট ভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। মারামারি ও বিএনপির বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।’

আবু বকর অভিযোগ করে বলেন, ‘বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান আমাদের মারধর করেছে।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি, যেন ঝুট-ঝামেলা না হয়। গতকাল রাত থেকেই আমি জামায়াত-এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছি সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দুপুরে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এখানে মারামারি বা সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সুদানে পাকিস্তানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিল সৌদি

নওগাঁয় চার খুন: নেপথ্যে সম্পত্তির বিরোধ নাকি অন্য কিছু, পুলিশি হেফাজতে বাবা, দুই বোন ও ভাগনে

প্রচণ্ড গরমে হোটেলের এসি কামরা ভাড়া নিলেন নারী

সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন তাসনিম জারা

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত