Ajker Patrika

হাওরের ডাকাতদের তালিকা আছে, অভিযান চালিয়ে ধরুন: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
হাওরের ডাকাতদের তালিকা আছে, অভিযান চালিয়ে ধরুন: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
আজ দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাওরাঞ্চলে ডাকাতি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, ডাকাতদের তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। পূর্বের রেকর্ডের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে তারা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে।

আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডাকাতি যারা করে তাদের তালিকা আছে। পূর্ববর্তী রেকর্ডের ভিত্তিতে তাদের ধরুন। ডাকাতি তো দূরের কথা, কয়েক দিন টানা অভিযান চালালে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে। অন্যায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই আমরা আপস করব না।’

মাদক নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শরীফুল আলম বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু মাদক উদ্ধারের অপেক্ষায় না থেকে প্রয়োজন হলে আইনসম্মত অন্য মামলায়ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

শরীফুল আলম বলেন, ‘দুর্নীতিকে না করতে হবে। সেটা অফিসার থেকে শুরু করে আমাদের সবাইকে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সরকারের বরাদ্দ আমরা কষ্ট করে নিয়ে আসব, আর সেখানে লুটপাট হবে! সেটা দলের লোক হোক, আর যেই হোক, সে জায়গায় আমরা কোনো ছাড় দেব না। ঠিকাদার সাহেবরা ১৫% লেস দিয়ে কাজ নেয়, ৩০% লেস দিয়ে কাজ নেয়। পরে নিজের টাকা রাখে, অন্যদের দিতে হয়। সবকিছু দিয়ে ৪০% ও কাজ হয় না। অথবা কাজ পাবার পরে অনেকে দৌড়াদৌড়ি করে ১০ লাখ টাকা দিয়ে কাজ কিনে আনে সাব-কন্ট্রাক্টে। কিন্তু কাজ ঠিকমতো হয় না। সাব-কন্ট্রাক্টের লাভ ওই লোকের লাভ আর অন্যদের দিতে দিতে আমার এলাকার কাজটা আর ঠিকমতো হয় না। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের এক্সেন সাহেব, এলজিইডি’র এক্সেন সাহেব যারা আছেন সাব-কন্ট্রাক্টে যেন কাজ না হয়, এই জায়গাটা এনশিউর করবেন। হাতবদল হয়ে কাজ হলে এ কাজ কিন্তু ভালো হয় না।’ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকির নির্দেশ দেন তিনি।

উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী জানান, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে দূর হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত