Ajker Patrika

গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি 
গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
আয়শা সিদ্দিকা জ্যোতি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আয়শা সিদ্দিকা জ্যোতি (৩২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শরীফ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

জ্যোতি উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর ওকরাবাড়ি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সাত বছর আগে পাকুড়িয়া শরীফ এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে শহিদুল ইসলাম লেবুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শহিদুল লালচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

জ্যোতির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো। প্রথম দিকে কোনো দাবি না থাকলেও পরে মোটরসাইকেল ও বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেন স্বামী শহিদুল। আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও জ্যোতির বাবা কিস্তিতে একটি পালসার মোটরসাইকেল কিনে দেন। তবে মোটরসাইকেলটি পছন্দ না হওয়ায় শহিদুল সেটি ফেরত দেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে ছেলে সন্তান হওয়ার পরও জ্যোতির ওপর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ অব্যাহত থাকে। জ্যোতির বাবা জয়নাল আবেদীন অবসর নেওয়ার পর রংপুর শহরে জমি কেনার কথা বলে তাঁর কাছে ২২ লাখ টাকা দাবি করেন শহিদুল। প্রায় দেড় মাস ধরে এ টাকা এনে দেওয়ার জন্য জ্যোতিকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাঁর ওপর নির্যাতন বেড়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।

জ্যোতির ছোট ভাই জাহিদ বলেন, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করার মানুষ নয়। অনেক কষ্ট সহ্য করেও সে ওই বাড়িতেই থাকত। কিছুদিন আগে শহরে জমি কেনার কথা বলে ২২ লাখ টাকা চাওয়া হয়। আমাদের বিশ্বাস, আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, সকালে শহিদুল স্থানীয় লোকজনকে তাঁর স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে মারা যাওয়ার কথা জানান। পরে লোকজন গিয়ে জ্যোতির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ নামিয়ে নেয়। ঘটনার পর শহিদুলসহ তাঁর পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে চলে যান বলে তিনি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, বিয়ের পর থেকে জ্যোতিকে মারধর করা হতো বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন। শহিদুলের অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে; তবে এ বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মামলা করা হলে আইনিভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত