Ajker Patrika

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাওনা পরিশোধে বিএসইসিতে স্মারকলিপি, বিক্ষোভ সমাবেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩১
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাওনা পরিশোধে বিএসইসিতে স্মারকলিপি, বিক্ষোভ সমাবেশ
রাজধানীর বিএসইসি ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট দাবিদারদের প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণফোন লিমিটেডের সাবেক কর্মীদের ২০১০-২০১২ সময়কালের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ ও আইনসংগত পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’। একই দাবিতে রাজধানীতে বিএসইসি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন তাঁরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত কর্মসূচিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট দাবিদারেরা অংশ নেন।

বিএসইসিতে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৩৪ অনুযায়ী কোম্পানিকে পরবর্তী বছরের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ নির্ধারিত অনুপাতে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই আইনি কাঠামোর আওতায় গ্রামীণফোনের ২০১০-২০১২ সময়কালের শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল সংক্রান্ত পাওনার মূল অর্থ পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হলেও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ অথবা বিলম্বের কারণে প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয় নাই। ফলে সাবেক শ্রমিক ও সুবিধাভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আইনসংগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বিএসইসিতে স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়ে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী ফজলুল করিম প্রিন্স বলেন, বিএসইসি দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি প্রণয়ন ও প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করে।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তালিকাভুক্ত কোম্পানির কার্যক্রম তদারকি, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও আর্থিক বিবরণী-সংক্রান্ত পরিপালন পর্যবেক্ষণ করে। অননুমোদিত বা অননুগত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও কমিশনের রয়েছে। এ কারণে স্মারকলিপিতে গ্রামীণফোনের বিষয়টি বিএসইসির নিয়ন্ত্রক ও তদারকি ক্ষমতার আওতায় পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে কোম্পানির আইন, বিধি, করপোরেট গভর্ন্যান্স বা প্রকাশ-সংক্রান্ত পরিপালনে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত ক্ষমতার আওতায় তদন্ত, পরিদর্শন ও অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনকারী সাবেক কর্মীরা স্মারকলিপিতে বলেন, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তাঁরা আইনসংগত পাওনা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ চান। ১৬ বছর ধরে একটি পাওনা অনিষ্পন্ন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোন বৃহস্পতিবার এক বার্তায় জানিয়েছে, তাদের কিছু সাবেক কর্মী চাকরি সংক্রান্ত নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময় জিপি হাউসের সামনে এবং আরও কয়েকটি জায়গায় সমবেত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগ বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া তারা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি গ্রামীণফোন শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে গ্রামীণফোন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত