Ajker Patrika

ইয়াবা কারবারিদের নতুন তালিকা হবে, টেকনাফে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০৩
ইয়াবা কারবারিদের নতুন তালিকা হবে, টেকনাফে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গতকাল রাতে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইয়াবা কারবারে জড়িত শীর্ষ মাদক কারবারি ও বাহকদের নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে টেকনাফে অপহরণ রোধে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন’বিষয়ক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারিদের মূল হোতাদের একটি নিরপেক্ষ ও হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বাহকদেরও পৃথক তালিকা করা হবে। কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকায় গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ তালিকা প্রণয়ন করবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, সমুদ্রপথে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূর্ণাঙ্গভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ক্যাম্পের ভেতরে মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

কক্সবাজারকে মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রধান রুট উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইয়াবা পাচার ও মাদকের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নিরপেক্ষভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারে এ-সংক্রান্ত প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নাফ নদে মাছ আহরণ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে জেলে ও নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। উখিয়া ও টেকনাফের জেলে এবং নৌযানের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান ১১টি টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অচল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং কউকের ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত