Ajker Patrika

রাজশাহীর পুঠিয়া

রাজবাড়িতে হাতুড়ির আঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজবাড়িতে হাতুড়ির আঘাত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ২০০ বছরের পুরোনো রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি ভবন ভাঙার কাজ চলছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দুই দফায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করলেও আবার শুরু হয়েছে ভাঙা। গতকাল পুঠিয়া-আড়ানি সড়কের পাশে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভবনটি ২০০ বছরের পুরোনো। তবে ইতিমধ্যে ভাঙা শুরু হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কাজটি বন্ধ করেছে দুই দফা। এরপরও মালিকানা দাবি করে ভবন ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। এই ঘটনা ঘটছে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভেতরে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও গবেষকেরা বলছেন, ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের দিকে ভবনটি নির্মিত হয়। এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যও রয়েছে। তাই ভবনটি ভাঙতে দেওয়া হবে না। আর ভবনটি মূল রাজবাড়ি থেকে সামান্য দক্ষিণে।

ভবনটি পুঠিয়া রাজবাড়ির সামনের অংশে পুঠিয়া-আড়ানি সড়কের পাশে। এর পেছনেই রাজবাড়ির শিবমন্দির। মূল রাজবাড়ি ভবনের মাঠ থেকে এই ভবনের দূরত্ব বড়জোর ৫০ মিটার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি দোতলা ভবন ভাঙা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দোতলার ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছে নিচতলার দুটি ঘর। পুরোনো চুন-সুরকির দেয়াল ভেঙে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভবনটিতে একসময় রাজবাড়ির দারোয়ান নিতাই সিং বাস করতেন বলে জানান স্থানীয়রা। এখন বাস করেন পুঠিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা কমিটির সদস্য। কিছুদিন ধরে তিনি ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, এটি কেনা সম্পত্তি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাড়ির জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ। এটা আগে মাড়োয়ারিদের সম্পত্তি ছিল। আমার দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার পাকিস্তান আমলে কিনেছেন। আমাদের দলিল আছে। ভবন পুরোনো হওয়ায় সেটা থাকার উপযোগী না। এ কারণে আমরা ভাঙার চেষ্টা করছি। এখানে নতুন ভবন করার ইচ্ছা আছে।’

পুঠিয়ার রাজপরিবার ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ‘পুঠিয়ার রাজবংশ: ইতিহাস ও স্থাপত্য’ নামে তাঁর লেখা একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।

কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাজবাড়ি ঘিরে থাকা পুরোনো স্থাপত্যে নির্মিত সব ভবনই রাজবাড়ি নির্মাণের কাছাকাছি সময়ে নির্মিত। এসব ভবনে রাজবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকতেন। এই ভবনও তেমনই একটি ভবন। এটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে। এটা ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই উচিত হবে না। এটিকে রক্ষা করতে হবে।’

পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাজবাড়ি ঘিরে থাকা মোট ২০টি স্থাপনাকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ইতিমধ্যে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। তিনটি ভবন এখনো গেজেটভুক্ত হয়নি। যে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, সেটি গেজেটভুক্ত না। কিন্তু এগুলো সবই রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভেতরে। মহারানী হেমন্ত কুমারীর মৃত্যুর পর অনেক সম্পত্তি স্থানীয় লোকজন নানা কৌশলে নিজেদের নামে করেছেন। এই ভবনের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে।’

হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৪ এপ্রিল তাঁরা ভবনটি ভাঙার বিষয়ে প্রথম জানতে পারেন। তখন মৌখিকভাবে মনিরুল ইসলামকে ভাঙতে নিষেধ করলে ভাঙার কাজ বন্ধ হয়। কিন্তু রোববার সকাল থেকে আবার শ্রমিক এনে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেন তিনি। খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত