Ajker Patrika

কাপ্তাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, আসছে তিন উপজেলা থেকেও

কাপ্তাই ( রাঙামাটি) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৪৩
কাপ্তাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, আসছে তিন উপজেলা থেকেও
কাপ্তাই উপজেলা সদর হাসপাতালের ছবি। রবিবার সকালে তোলা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। কাপ্তাইয়ের পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গত সাত দিনে এই হাসপাতালে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ ও কিছু চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতিও রয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতালকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চিকিৎসা নেওয়া ২৫ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু। এ সময়ে কোনো রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়নি এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৪৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

গত মাসের তুলনায় রোগীর চাপ বেড়েছে

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, গত মাসের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। এতে হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে তিন মাসব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে সেখানে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে। হটস্পটগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা (ল্যান্ডিং) করা হবে। স্থানীয় লোকজন যাতে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। পরে সেসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চিৎমরম বাজার ঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. খলিল (৩৮) বর্তমানে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ডেঙ্গু পজিটিভ। আমি উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে চিকিৎসার মান ভালো।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫০টি শয্যা রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চাপও রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিয়েও সংকট রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত