Ajker Patrika

ফরিদপুরে আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারি মামলায় ছয় আসামিকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ২৫
ফরিদপুরে আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারি মামলায় ছয় আসামিকে অব্যাহতি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারিসহ সরঞ্জামাদি ক্রয়ে দুর্নীতি ও ১০ কোটি টাকার কেনাকাটায় আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ১২ আসামির মধ্যে ছয়জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপর ছয় আসামিকে নিয়ে অভিযোগপত্র গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সরকারি কৌঁসুলি কুব্বাত হোসেন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শরিফউদ্দিন চার্জ গঠনের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে ছয়জনকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি ছয়জনকে নিয়ে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শেখ আব্দুল ফাত্তাহ, সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. আলমগীর ফকির, গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ও নিমিউ অ্যান্ড টিসি ঢাকা হেড কোয়ার্টারের প্রকৌশলী মিয়া মোর্তজা হোসাইন।

মামলার বাকি ছয় আসামির মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরুণ কান্তি বিশ্বাস ও ঠিকাদার মুনশী কাফরুল হুসাইন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া বাকি চারজন জামিনে আছেন। তাঁরা হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল্লা আল মামুন, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) এনামুল হক ও মেসার্স আলী ট্রেডার্সের মো. আলমগীর কবির।

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৫ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ চালুর জন্য ১০ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলী ট্রেডার্স। টাকা না পাওয়ায় তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য দুদককে (ঢাকা হেড কোয়ার্টারকে) নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. মামুন উর রশিদ চৌধুরী বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ক্রয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত তিন চিকিৎসক ও তিন ঠিকাদারকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক মো. ফরিদ হোসেন পাটোয়ারি ২০২৩ সালের ৯ জুলাই আদালতে ক্রয় কমিটির সদস্য তিন চিকিৎসককে অব্যাহতি দিয়ে তিন ঠিকাদারের সঙ্গে আরও ১১ জন নতুন ব্যক্তিকে যুক্ত করে ১৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আকবর আলী শেখ ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে নতুন করে আবার তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে দুদককে নির্দেশ দেন। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. বেনজীর আহমেদ ১২ জনকে আসামি করে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আদালত যে ছয়জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী এম এ সামাদ। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি ছিল একটি হয়রানিমূলক মামলা। ঠিকাদারি দুই প্রতিষ্ঠান আইসিইউ ইউনিটের জন্য ১০ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করেছিল। কিন্তু সরকার ১০ আনা পয়সাও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেয়নি। যেখানে টাকা আত্মসাতের কোনো ঘটনাই ঘটেনি সেখানে “আত্মসাৎ করার চেষ্টার” কথিত অভিযোগ এনে নামীদামি মানুষদের হয়রানি করা হয়েছে। ঠিকাদারি টেন্ডার আহ্বানের রেজল্যুশনে তাঁদের স্বাক্ষরই তাঁদের জন্য অপরাধ হয়ে দেখা দিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা এবং আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট দুদককে তদন্ত করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ে আকাশচুম্বী মূল্যের অসংগতি এবং ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, হাসপাতালে কোরিয়া থেকে কেনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা। এরপরই বিষয়টি সারা দেশে আলোচিত হয়ে ওঠে।

জানা যায়, ওই সময়কালে হাসপাতালে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিল পেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১০ কোটি টাকা যন্ত্রপাতির দাম বেশি দেখানোসহ বিভিন্ন অসংগতির কারণে আটকে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১ জুন অনিক ট্রেডার্স বকেয়া আদায়ে হাইকোর্টে এটি রিট করে। রিটের পর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অনিক ট্রেডার্সের সরবরাহ করা ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির একটি তালিকা চেয়ে পাঠান।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই ১০ কোটি টাকার বিপরীতে দামসহ ১০ আইটেমের যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দেন।

ওই তালিকায়, আইসিইউ বিভাগে ১৬টি শয্যার জন্য কোরিয়ার তৈরি প্রতিটি পর্দার দাম দেখানো হয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, তিনটি ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উল্লেখ করে দাম দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্টের দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিআইএস মনিটরিং সিস্টেম কেনা দেখানো হয় ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকেরা ঐক্যবদ্ধ: বিবৃতি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত