Ajker Patrika

গাজীপুর মহানগর: হাসপাতালের বারান্দা মেঝেতেও ডেঙ্গু রোগী

  • আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।
  • অধিকাংশ রোগীই কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরের।
  • চিকিৎসা দিতে হিমশিম চিকিৎসক, নার্সদের।
রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর (গাজীপুর)  
গাজীপুর মহানগর: হাসপাতালের বারান্দা মেঝেতেও ডেঙ্গু রোগী
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটের সামনের ফাঁকা জায়গায় বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। ছবিটি গতকাল দুপুরের। আজকের পত্রিকা

ঘনবসতির শিল্পাঞ্চল গাজীপুর মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। যতই দিন গড়াচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের হার। অতিরিক্ত রোগীর চাপে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে জ্বরে আক্রান্ত অনেক রোগীকে মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়িতেও চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে যত রোগী আসছে, তাদের অধিকাংশই মহানগরীর কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরের। তাঁদের মতে, ওই এলাকা ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট। তবে সিটি করপোরেশনের মশকনিধনের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তেমন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

মহানগরীর কোনাবাড়ী-কাশিমপুরে যখন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, তখন সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। যদিও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দাবি, গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রকট হয়নি এবং কেউ মারা যায়নি।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চলতি বছরে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী। এ ছাড়া জরুন এলাকার নুরুল হক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে তিনজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ২৬ আগস্ট ডেঙ্গুতে মারা গেছে কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু। আর ২৪ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুরে ডেঙ্গুতে মারা যায় সাত বছরের শিশু সাদিয়া।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনাবাড়ীর পাশের কড্ডায় দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে ময়লা; বাইমাইল এলাকায় নতুন করে ময়লা ফেলা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলেও জানান নগরবাসী। যার কারণে এই অঞ্চলের ডেঙ্গু শনাক্তের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গতকাল দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর অনেক চাপ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মেঝেতে, বারান্দায় এমনকি সিঁড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। দল বেঁধে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য আসছে মানুষ।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা একজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ রোগী আসছে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর থেকে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, ‘হাসপাতালে একটি বেডও খালি নেই। বাধ্য হয়ে রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আমাদের অনেকেই সিট না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়িতেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১৮ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অনেক শ্রমিক একসঙ্গে থাকেন। তাঁদের স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব রয়েছে। বিষয়টিতে একটু গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘আমার জানামতে, গাজীপুরে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বা কেউ মারা গেছেন, এমন খবর জানা নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, যাতে আমাদের নগরীর কোনো মানুষ মশার কামড়ে আক্তার না হয়। মশকনিধনের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে সিটি করপোরেশনে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত