Ajker Patrika

মাদক বিক্রির ভিডিও পোস্টের জেরে কিশোরগঞ্জে তরুণকে মারধর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০১
মাদক বিক্রির ভিডিও পোস্টের জেরে কিশোরগঞ্জে তরুণকে মারধর
ইয়াবা কেনা-বেচার এই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করায় মারধর করা হয় শাহীনকে। ছবি: সংগৃহীত

মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন কিশোরগঞ্জের তরুণ শাহীন। এরপর তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। ভিডিওটি মুছে না ফেললে তাঁকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বলেও ভয় দেখানো হয়। পরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে মারধর এবং মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ফেসবুকের সেই পোস্ট মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল এলাকার বাসিন্দা শাহীন (২২) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি অভিযোগটি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হাজিরগল এলাকার সুলতানের ছেলে আহাম্মদ (৩৫), বিপ্লবের ছেলে রোমন (২০), জয়নাল (৪১), আব্দুল বারিকের ছেলে সাইদুল (৩৫) এবং জয়নালের ছেলে শফিকুল (১৯)।

শাহীন অভিযোগে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করেন। প্রায়ই তাঁর বাড়ির সামনে মাদক বিক্রি করা হয়। বাড়ির সামনে অভিযুক্ত আহাম্মদকে মাদক বিক্রি করতে না করেন শাহীন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে মাদক বিক্রির দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন শাহীন। অভিযোগে তিনি বলেন, ওই ভিডিও ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। ভিডিওটি না সরালে তাঁকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়।

শাহীন অভিযোগ করেন, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে আহাম্মদ ও রোমন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে রাউতের বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। তাঁরা লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ফোন থেকে ফেসবুকে দেওয়া মাদক বিক্রির ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। শাহীনকে ভবিষ্যতে মাদক বিক্রিতে বাধা না দিতে এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতেও হুমকি দেওয়া হয়।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কারও কাছে অভিযোগ করলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত