
রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কমছে না তার উপদ্রব। প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। ইতিমধ্যে মশা মারতে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা এবং প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা সমস্যার টেকসই সমাধানে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
বরাদ্দ বেড়ে চললেও ফল নেই
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের গত ১০ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মশা নিধনে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল আসছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে ডিএনসিসির বরাদ্দ ১১০ কোটি এবং ডিএসসিসির বরাদ্দ ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে ডিএসসিসিতে তা ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ।
দুই সিটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে মশা নিয়ন্ত্রণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮২২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসি ৫৫৩ কোটি ৫ লাখ এবং ডিএসসিসি ২৬৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা খরচ করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘কীটনাশকের ওপর আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থও জড়িত। কিন্তু সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া শুধু কীটনাশক দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সফল হওয়া সম্ভব নয়।’
ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
মশকনিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের বড় অংশ ওষুধের পেছনে যাচ্ছে। কিন্তু এ কাজে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও অনেক দিন ধরে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া ফগিং কার্যক্রম কার্যকর নয়। সুফল পেতে সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক কীটনাশক প্রয়োগ এবং পাশাপাশি জৈবিক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
কবিরুল বাশার বলেন, সমস্যা মূলত ওষুধ প্রয়োগে। সঠিক ডোজ, সঠিক জায়গা ও সঠিক সময়ে প্রয়োগ না করলে কোনো কীটনাশকই কাজ করবে না।
নগর বিষয়ে কাজ করা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান জানান, মশা দমনে ব্যবহৃত অনেক কীটনাশকই কার্যকারিতা হারিয়েছে। শুধু লার্ভিসাইড দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং জলাশয়ে লার্ভা ধ্বংসের টেকসই ব্যবস্থা বেশি কার্যকর।
ফগিং বা ধোঁয়ার আকারে ওষুধ ছিটানো কর্মসূচি সম্পর্কে আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘এটি অনেকাংশে লোক দেখানো কার্যক্রম। এর বাস্তব কার্যকারিতা সীমিত। আমাদের মশা নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।’
সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জোর
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধনির্ভরতার বাইরে গিয়ে পরিবেশভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে। এতে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক কীটনাশক প্রয়োগ একসঙ্গে থাকতে হবে।
কবিরুল বাশার বলেন, প্রথমে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা; যেমন ড্রেন পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি সরানো এসব করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ; নালা-নর্দমায় গাপ্পি মাছ বা ব্যাঙ ছেড়ে দিয়ে লার্ভা খাওয়াতে হবে। এরপর যথাযথভাবে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। মশার একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র আছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে সেই চক্র ভাঙা যাবে না, ফলে মশা আবার বাড়বে।
পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেন আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তথা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে মশার প্রজনন বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু এসব জায়গায় কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কত টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে, তার হিসাবকে।
আদিল খান আরও বলেন, ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যকর না থাকায় স্থানীয় তদারকি ভেঙে পড়েছে। ফলে সমস্যার সঠিক চিহ্নিতকরণেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
নানা উদ্যোগ দুই সিটির
মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি। এ জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।
অন্যদিকে ডিএসসিসি মাঠপর্যায়ে সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৫০ জন সুপারভাইজার ও কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
দুই সিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর ১০টি অঞ্চলে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করে মাসব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘হটস্পট’ চিহ্নিতকরণ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৮টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে ড্রেন পরিষ্কার, বক্স কালভার্ট সংস্কার, ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তরে ৩৬০ জন নতুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ‘মশার সমস্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ সমাধান হয়েছে। এই সময়ে কিউলেক্স মশা বেশি থাকে। বৃষ্টির কারণে ও নিয়মিত কার্যক্রমে এটি কিছুটা কমেছে। এখন আমরা ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম, এ সময় এডিস মশা বাড়তে পারে।’

পটুয়াখালীর বাউফলে একসঙ্গে জন্মানো পাঁচ সন্তানকে দেখভাল করতে গিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছেন মা লামিয়া বেগম (২৩)। শিশুর পরিচর্যা করতে গিয়ে নিজের ঘুম-খাওয়ার ফুরসত মেলে না তাঁর।
১১ মিনিট আগে
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সবুজ (৪০) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
৩৬ মিনিট আগে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আম কুড়াতে গেলে দুই শিশুকে পিটিয়ে আহত করেছেন আমগাছের মালিক। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় আগুনে অন্তত আটটি দোকান পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর দক্ষিণ বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাঁদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে