
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মাঠপর্যায়ে পুলিশের সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন সরকার। পুলিশকে ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার তৎপরতা মোকাবিলায় বিদেশি পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জঙ্গি দমনে প্রশিক্ষিত ইউনিটগুলোকেই মব নিয়ন্ত্রণ ও দাঙ্গা দমনের কৌশলে দক্ষ করে তোলা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্বিধা কাটিয়ে আইনের মধ্যে থেকে কার্যকর বলপ্রয়োগ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর টানা তিন দিন মাঠে না থাকা পুলিশ সদস্যরা ধীরে ধীরে কাজে ফেরার পর প্রায় দুই বছর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এখনো অনেক সদস্য বাস্তব পরিস্থিতিতে কোন পর্যায়ে কী মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, এ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাঁদের মধ্যে অস্বস্তি ও একধরনের ভয় কাজ করছে। এ সুযোগে বিভিন্ন স্থানে উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীগুলো এখনো মব সৃষ্টি করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে, যদিও সংখ্যা আগের তুলনায় কম। এতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশও সমস্যায় পড়ছে। ফলে প্রচলিত মৌলিক প্রশিক্ষণের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিনির্ভর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখছে সরকার। এজন্য বেশ কয়েকটি দেশের পুলিশের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় দুই বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় পুলিশের সামনেই হামলা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত হামলার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও খুব বড় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।
তবে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। দায়িত্ব নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, দেশে আর কাউকে মব করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মানসিকভাবে এখনো চাপে থাকা পুলিশ বাহিনী কীভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের কাছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে ‘মব’ মোকাবিলার কৌশল বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এসব দেশ কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশের জঙ্গি দমন ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দক্ষ এসব ইউনিটকে দাঙ্গা পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা এবং ন্যূনতম বলপ্রয়োগ নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে পুলিশের নতুন আইজি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্রিয়, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে পেশাদারত্ব বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে লাঠিপেটা বা গুলি চালানোর অনুমতি থাকলেও কোন পরিস্থিতিতে কোন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও এ ঘাটতির কথা অস্বীকার করছেন না। তাঁরা বলছেন, মৌলিক প্রশিক্ষণে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের তাত্ত্বিক বিষয় থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক সময় সদস্যরা দ্বিধায় পড়ে যান। ২০২৩ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের ট্রেনিং শাখার এক গোপন প্রতিবেদনে উচ্ছৃঙ্খল জনতার (মব) নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টরদের প্রশিক্ষণ থাকলেও কনস্টেবল পর্যায়ে আলাদা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়ে এক বছর প্রাতিষ্ঠানিক এবং দুই বছর মাঠভিত্তিক করার সুপারিশ করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যাঁদের ওপর মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব, তাঁরাই যদি হামলার শিকার হন, তাহলে তাঁদের প্রতি জনআস্থা কমে যায়। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। তবে পুলিশের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন, পাশাপাশি সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। তবে নদীতে জেলেদের মাছ ধরা ঠেকাতে এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অভিযান যতই জোরদার হোক, স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন না
৩ ঘণ্টা আগে
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানো এবং রেল খাতকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে কমিটি...
৫ ঘণ্টা আগে
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘটে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ৬৪ বছর পরও তাঁকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য দাবি জানাতে হচ্ছে
৬ ঘণ্টা আগে