Ajker Patrika

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন কমিটি বাতিলের দাবি জনসংহতি সমিতির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৫১
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন কমিটি বাতিলের দাবি জনসংহতি সমিতির
ফাইল ছবি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এড়িয়ে সরকার একতরফাভাবে তিনটি কমিটি গঠন করেছে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ওই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদ সংরক্ষণ না করার দাবিও জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ না নিয়ে নির্বাহী কমিটির কার্যপরিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকৌশল প্রণয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, বিষয়টি উদ্বেগজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এর মধ্য দিয়ে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে না দেখে তথাকথিত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদের চোখে দেখছে বলে প্রতীয়মান হয়। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে তা আরও জটিল করে তুলবে।’

বিবৃতিতে নির্বাহী কমিটির কার্যপরিধির প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের কথা উল্লেখ রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও চুক্তি অনুযায়ী প্রণীত আইনগুলো সংশোধনের ‘হীন উদ্দেশ্যেই’ এ কার্যপরিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থিতিশীল হবে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, কমিটিগুলোর গঠন, স্তরবিন্যাস ও কার্যপরিধি পর্যালোচনা করলে সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রাধান্য দেখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় নীতি প্রণয়ন, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ও নির্বাহী কমিটিতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ডিজিএফআই, এসবি, এনএসআই ও এসএসআইবিসহ সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সদস্য করা হয়েছে। নির্বাহী কমিটির সচিবালয়ে ডিজিএফআই প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে এবং প্রয়োজনে সচিবালয় গোয়েন্দা সংস্থা বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে জাতীয় কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টাকে প্রধান সমন্বয়ক এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালককে সদস্যসচিব করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। নির্বাহী কমিটিতে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং এসএসআইবির পরিচালককে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বলেছে, রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানে গঠিত কমিটিতে সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি রাখা নজিরবিহীন ও গণতান্ত্রিক রীতিবিরুদ্ধ। সংগঠনটির দাবি, এতে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ রুদ্ধ হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন ও সেনাশাসন জোরদার হবে।

বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসনসংক্রান্ত টাস্কফোর্স, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত