Ajker Patrika

মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানি: মীমাংসার টাকা বিএনপি নেতার পকেটে

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১৫: ২৮
মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানি: মীমাংসার টাকা বিএনপি নেতার পকেটে
প্রতীকী ছবি

নাটোরের বড়াইগ্রামে আষ্টম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীকে (১২) শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে আহাদ আলী নামে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। বিষয়টি বিএনপি নেতা-কর্মীরা ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসার কথা বললেও নিজেরাই সেই টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার। উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের তিরাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। কবিরাজ আহাদ আলী উপজেলার তিরাইল মোল্লাপাড়া গ্রামে বহুত আলীর ছেলে। ওই ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা-কর্মীরা হলেন তিরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি কর্মী রুহুল আমিন ও মাঝগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আহাদ আলী কবিরাজ আমার প্রতিবেশী। আমার মেয়ে তাঁকে চাচা বলে ডাকে। তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে আসার সময় আমার মেয়েকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার ছলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার করলে কবিরাজ তাকে ছেড়ে দেয় এবং সে দৌড়ে পালিয়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল আমিন ও খোকন আহমেদের নেতৃত্বে সালিস বসে। সালিসে আহাদ আলী দায় স্বীকার করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আহাদ আলী ক্ষমা চাইলে জরিমানা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তিন দিন পরে মাঝগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদের কাছে সেই টাকা জমা দেয় আহাদ আলী। কিন্তু আমরা সেই টাকা পাইনি।’

মেয়েটির মা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতেও বাধা দিচ্ছেন।

অভিযুক্ত বিএনপি-কর্মী রুহুল আমিন এ বিষয়ে বলেন, ‘স্থানীয় ভাবে বসে বিচার করা হয়েছে। এই ধরনের বিচার করার বিধান আমার জানা ছিল না। সমাজ প্রধানদের বিচারে আহাদ আলী দোষ স্বীকার করায় তাকে জরিমানা ও আর কোনো দিন কবিরাজি করবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়ার কথা হয়েছে। আর টাকা খোকনের কাছে জমা আছে। মেয়েটির পরিবার কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিলেই টাকা পেয়ে যাবে।’

আহাদ আলী দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি একটি ভুল করেছিলাম। নিজের মেয়ে মনে করে টাকা খোকনের নিকট জমা দিয়েছি।’

তবে খোকন আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে কেউ টাকা জমা দেয় নাই। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। মেয়েটির পরিবার আমার আত্মীয় হওয়ায় (সালিসে) ডেকেছিল। আমি বিচারে না বসে চলে এসেছি।’

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত