
গত ১৮ জুন ভোরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোনের হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল মস্কোর ওপর ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়—রুশ সেনারা ব্যস্ত মহাসড়কের পাশ থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দৃশ্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি তাৎক্ষণিক ও বিশৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মার্কুস শিলার বলেছেন, রাশিয়ার অনেক পুরোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইউক্রেন কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা উন্নত করেছে।
২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি তারা সেন্ট পিটার্সবার্গ ও মস্কোর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি রাশিয়ার অভ্যন্তরে পৌঁছে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের কৌশল হলো একসঙ্গে বহু দিক থেকে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠিয়ে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা। যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত সীমান্ত ও সম্মুখ সমরে কেন্দ্রীভূত করেছিল। কিন্তু ইউক্রেন ধীরে ধীরে রাশিয়ার অভ্যন্তর ও অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে রাশিয়াকে তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে বাধ্য করেছে। ফলে অনেক এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ইউক্রেন শুধু হামলাই চালাচ্ছে না, বরং রাশিয়ার রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর দাবি, চলতি বছরের শুরু থেকে তারা ১৬৬টি এবং ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩২ টির বেশি রুশ বিমান প্রতিরক্ষা উপাদান ধ্বংস করেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞ থমাস উইদিংটনের মতে, রাশিয়ার অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য তৈরি। ছোট আকারের আধুনিক ড্রোন শনাক্ত ও অনুসরণ করার জন্য এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট উপযোগী নয়। ড্রোনগুলো আকারে ছোট হওয়ায় রাডারে ধরা পড়লেও সেগুলোর গতিপথ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহেও রাশিয়া সমস্যার মুখে পড়ছে। এতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম। রুশ সামরিক বাহিনীর দাবি, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২১৬টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবু একসঙ্গে শতাধিক ড্রোন আক্রমণ করলে কিছু ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থেকেই যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ও ব্যাপক ড্রোন হামলা রাশিয়ার জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মস্কোর সামনে সহজ কোনো সমাধান নেই; বরং তাদেরকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিকল্প বেছে নিতে হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য নেতারা যেখানে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকেন, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণ ও উসকানির জবাবে নজিরবিহীনভাবে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে
সুদূরপ্রসারী সামরিক ফলাফলের বাইরেও কিছু যুদ্ধের এমন ক্ষমতা থাকে, যা পুরো অঞ্চলকে নতুনভাবে গড়ে দিতে পারে। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণ আরব আঞ্চলিক ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা বলয়ের চারপাশে পুনর্গঠিত করেছিল। আর ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণ এমন এক সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঢেউ তৈরি করেছ
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর শুরু করছেন আজ রোববার থেকে। এই সফরে তিনি মালয়েশিয়া ও চীনে যাচ্ছেন। এই খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তাদের দৃষ্টিতে, ভারতকে এড়িয়ে তারেক রহমানের চীনমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা তাঁর পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের একটি ইঙ্গিত।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি নিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনির অনড় অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরোধী কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এতে আরও শক্ত অবস্থান নিতে শুরু করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে