
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নিপীড়নমূলক ইসলামি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোই তাঁর দেশটিতে হামলা চালানোর লক্ষ্য। ইরানি জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, তাদের ইরানি শাসকগোষ্ঠীর কঠোর শাসন থেকে মুক্ত করা হবে। কিন্তু কেবল আকাশ থেকে বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে সে লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, স্থল সেনা অভিযান চালিয়ে এবং খামেনির শাসনের বিরোধীদের সহায়তা নিয়ে এ পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও হতে পারে।
গত শনিবার ইরানে হামলা শুরু করার পরপরই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি ইরানি জনগণের মুক্তির জন্য। যখন আমাদের কাজ শেষ হবে তখন আপনারা ক্ষমতা হাতে নেবেন। নিজেদের মতো করে দেশ চালাবেন।’
এ প্রসঙ্গে থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিকো সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়া ইরানে এ ধরনের বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়তো অসম্ভব নয়, তবে তা সহজ হবে না।
সর্বোচ্চ নেতা থাকলেও ইরান কোনো একক ক্ষমতাকেন্দ্রনির্ভর রাষ্ট্র নয়। এটা অনেকটা ‘নেটওয়ার্কভিত্তিক কাঠামো’র মতো। যেখানে সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর, বিপ্লবী গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক গোষ্ঠীগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার মতো চরম কৌশল প্রয়োগ করলেও পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।
এ বাস্তবতায় দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকেরা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ সামরিক অভিযানের বিরোধী। ফলে ওয়াশিংটনের নীতিতে দেখা যাচ্ছে সীমিত ও দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রবণতা—যা দৃঢ় বার্তা দেয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি দায় এড়ায়।
যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাত্মক শক্তি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারলেও সংগত কারণেই নিরাপত্তা খাত পুনর্গঠন, উত্তরাধিকার নির্ধারণ বা দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে না। ২০১১ সালে লিবিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিমান হামলা স্বৈরশাসনের দ্রুত পতনের পর স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হতে পারে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথু ডাস তাই বলেছেন, ‘আপনি বিমান হামলা চালিয়ে ভবন ধ্বংস করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট দেশের শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্তও করতে পারেন। কিন্তু শুধু বিমান হামলা চালিয়ে শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করা গেছে এমন উদাহরণ তো দেখি না।’
২০১১ সালে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার মধ্য দিয়ে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে স্থল অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে গাদ্দাফির শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করেছিল মূলত লিবিয়ার বিদ্রোহীরা। ট্রাম্প ও তাঁর সরকারের অনেকে ইরানিদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উৎসাহিত করছেন। তবে অন্তত এখন পর্যন্ত ইরানে এমন কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়নি, যারা এই ইসলামি শাসকগোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেছেন, ইরানের ভেতরে ও বাইরে সংগঠিত বিরোধী শক্তি এখনো দুর্বল। তাঁর মতে, শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। নতুন কোনো গোয়েন্দা তথ্য সে বাস্তবতা বদলায়নি।
ট্রাম্প ইরানে সেনা অভিযান চালাতে চাইলেও তাঁর জন্য বিষয়টি সহজ হবে না। কেননা, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই মার্কিনদের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ জনগণ ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করে। অথচ ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনকে সমর্থন করেছিলেন দেশটির ৫৫ শতাংশ মানুষ।
আল জাজিরাকে গবেষক ম্যাথু ডাস বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এই যুদ্ধ যদি আরও কিছুদিন চলে এবং তারপর যুক্তরাষ্ট্র সেনা অভিযান শুরু করে, তাহলে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন আরও বেশি কমবে।’
গত মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ শুনানি শেষে তাঁর মনে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সেনা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। আর এই শুনানি শেষে তিনি আগের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত বোধ করছেন।
কিছুদিন ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিন্তু ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা আর বলছেনও না। বরং তাঁরা এখন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও সরঞ্জাম ধ্বংস, ড্রোন কার্যক্রম ও নৌবাহিনী অচল করে দেওয়ার মতো বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা ‘এই যুদ্ধ অনন্তকাল চলতে পারে না’ বলেও অভিমত দিয়েছেন।
থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো অবশ্য এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সন্দিহান। তাঁর প্রশ্ন, ‘কেন এই যুদ্ধ? এ থেকে আমরা কী অর্জন করতে চাচ্ছি? ইরানে হামলা থেকে মার্কিন প্রশাসন কোনোভাবেই লাভবান হতে পারবে না। কেননা, এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নিজের অবস্থানই পরিষ্কার নয়।’
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের বক্তব্যও প্রায় একই রকম। তিনি বললেন, ‘আপনারা যা ভাবছেন, পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ। আপনাদের চিন্তিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আসল কথা হলো, ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনাই নেই। ট্রাম্প যতই বাগাড়ম্বর করুন, এই অনৈতিক যুদ্ধ পুরোই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত আমাদেরকে এই যুদ্ধের একটামাত্র কারণও দেখাতে পারেননি। আর যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়েও তাঁর কোনো পরিকল্পনা নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করছে, তখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সন্ত্রাসবাদ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রুস হফম্যানের মতে...
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানে চলমান সংঘাতে দেশটির বিরোধী শক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানে হামলার ঘোষণা দিতে গিয়ে দেশটির জনগণের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আমরা শেষ করলে আপনারাই আপনাদের সরকার দখল করবেন।’
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ইরান আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর আপনি সপ্তাহের কোন দিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে বদলে যাবে। গত শনিবার তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর ব্যালিস্টিক মিসাইল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ করছে, বেইজিং তখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাত্ত্বিকভাবে, বেইজিং হলো তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অভিন্ন ইতিহাস ও পশ্চিমাশাসিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরোধিতার সূত্রে দেশ দুটি একে অপরের ঘনিষ্ঠ।
৬ ঘণ্টা আগে