
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করছে, তখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সন্ত্রাসবাদ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রুস হফম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, বরং মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের দীর্ঘদিনের ‘ছায়াযুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই সন্ত্রাসবাদকে ইরান তাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে ট্রাক বোমা হামলা কিংবা ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবে খোবার টাওয়ারে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো ইরানের সরাসরি প্রশিক্ষণ ও মদদেই ঘটেছিল।
হফম্যানের মতে, ইরান কেবল তার আঞ্চলিক শত্রুদের নয়, বরং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গোপনে তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্মূলের পরিকল্পনা করে আসছে। ১৯৮০ সালে ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে ইরানবিরোধী ব্যক্তিত্ব আলী আকবর তাবাতাবাইয়ের হত্যাকাণ্ড কিংবা ২০১১ সালে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে, আমেরিকার সীমানার ভেতরেও তেহরানের দীর্ঘ হাত পৌঁছাতে সক্ষম।
২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তৎকালীন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি চালিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ইরান রাশিয়ার মাফিয়া, মেক্সিকান কার্টেল কিংবা কানাডার হেলস অ্যাঞ্জেলসের মতো অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ভাড়া করে তাদের শত্রু বা ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদকে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ইরান কোনো আইনি সীমানা মানতে রাজি নয়। সালমান রুশদির ওপর দীর্ঘদিনের ফতোয়া এবং তাঁর ওপর হামলার ঘটনা এই বিদ্বেষী রাজনীতির চূড়ান্ত রূপ।
যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ইরানের জন্য তাদের অসম যুদ্ধের কৌশল প্রয়োগের তাগিদ তত বাড়বে। হফম্যান সতর্ক করেছেন, ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই আক্রমণ করবে না, বরং তাদের হাতে থাকা ‘স্লিপার এজেন্ট’, ‘লোন-উলফ’ এবং সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে আমেরিকার অবকাঠামো অচল করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার পরিকাঠামোয় ইরানের ‘চার্মিং কিটেন’-এর মতো সাইবার ইউনিটগুলো এখন অনেক বেশি উন্নত ও বিধ্বংসী।
ব্রুস হফম্যানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রস্তুতির অভাব উদ্বেগের কারণ। তাঁর বিশ্লেষণে কয়েকটি বড় দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসন ডিএইচএসকে সন্ত্রাসবাদ দমনের চেয়ে অবৈধ অভিবাসন দমনে বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছে। ফলে গত ২৫ বছরে সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা এখন প্রশ্নের মুখে।
দ্বিতীয়ত, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির অধীনে অভিজ্ঞ আমলা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এমনকি এফবিআইয়ের ইরানের হুমকি পর্যালোচনাকারী বিশেষ ইউনিটটিকেও সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় ভুল ছিল। তৃতীয়ত, যুদ্ধের সূচনা হওয়ার পরও ন্যাশনাল টেররিস্ট অ্যাডভাইজরি সিস্টেম থেকে কোনো জোরালো সতর্কতা না আসাটা ডিএইচএসের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তারই প্রমাণ।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে বিশ্বকাপ ফুটবল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের মতো বড় ইভেন্টগুলো ইরানের জন্য আমেরিকার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার আদর্শ সময় হতে পারে। আর্জেন্টিনা কিংবা লেবাননের মতো অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে। হফম্যানের মতে, ইরান প্রতিশোধ নিতে তাড়াহুড়ো করে না; বরং তারা ‘ঠান্ডা মাথায় প্রতিশোধ’ নিতে পছন্দ করে।

আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েল কি তার পুরোনো বন্ধু হারাল? একসময় যে ইসরায়েলকে আমেরিকানরা ‘ডেভিড’ (অল্প শক্তির বীর) এবং আরব বিশ্বকে ‘গোলিয়াথ’ (বিশাল শক্তিশালী শত্রু) হিসেবে দেখত, সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক আমেরিকার বড় একটি অংশ এখন ইসরায়েলকে দেখে কেবল এক আগ্রাসী সামরিক শক্তি হিসেবে।
৭ ঘণ্টা আগে
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছিল ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে নিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল এয়ার ফোর্স–টু।
১০ ঘণ্টা আগে
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা ইরানের ওপর আরোপিত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবের সংযম অনেককে বিস্মিত করেছে। শুরুর পরপরই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। দেশগুলোর অবকাঠামোতে ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পাল্টা অবরোধ কয়েক দশক ধরে চলা নিরাপত্তা
১ দিন আগে
গত সপ্তাহে যখন ইরানে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা ঘনিয়ে আসছিল ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কিছু করলেন, যা তাঁর সহযোগীরা বারবার না করার অনুরোধ করেছেন। তিনি যেন গণমাধ্যমের ভায়া হয়েই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেন।
১ দিন আগে