
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন তৃণমূল সদস্য গোবিন্দ পাসি। উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বালাই গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পাসির অভিযোগ, তিনি স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত হলেও দলের কোনো সাহায্য পাননি। চিকিৎসার অভাবে স্ত্রী মারা গেছেন।
৪৫ বছরের গোবিন্দ পাসি বলেন, ‘আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমার যখন সাহায্য দরকার ছিল, তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ভারতের গঙ্গা নদীতে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, সৎকার করতে না পারায় তাঁদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়।’
এ নিয়ে উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলা বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আনন্দ অবস্তী জানান, তিনি পাসির স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানেন। তাঁর দল পাসিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অবস্তী বলেন, পাসির স্ত্রী করোনায় মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বলেই এই বিলম্ব।
শুধু পাসি নন, তাঁর মতো বিজেপির তৃণমূল এবং মধ্যম পর্যায়ের অনেক নেতাই করোনা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মোদি সরকারের ওপর হতাশ। এরই মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশের ছয়জন বিধায়ক করোনায় পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে চিঠি লিখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে চিঠিটি উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি বিজেপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা সরবরাহে ব্যর্থতা, লকডাউন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক ঘাটতির কারণে সাময়িক কর্মবিরতিতে যান তিনি।
বিজেপি ভারতের অন্যতম বৃহৎ দল। দলটির প্রায় ১৫ কোটি নেতা–কর্মী রয়েছেন। তবে সারা ভারতে নেতা–কর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর কতটা ক্ষুব্ধ সেটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা না গেলেও, এর আগে বিজেপির কোনো নেতা–কর্মীকে মোদির বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে শোনা যায়নি।
অবশ্য এ নিয়ে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা কৈলাস বিজয় বর্গীয় দাবি করেন, দলের ভেতর কোনো অসন্তোষ নেই।
গত বছরের শুরুর দিক থেকে ভারতে নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। তবে এর আগে থেকেই ভারতের অর্থনীতি দ্যুতি হারানোয় সমালোচনার মুখে পড়েন মোদি। আর এবার করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ভারতে হাসপাতালের শয্যা এবং মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট তীব্র হলে সেটি আরও প্রকাশ্য হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাসির মতো তৃণমূল নেতারাই বিজেপির ভোটযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। আর তাঁদের অসন্তোষ বিজেপিকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে।
এ নিয়ে ভারতের কলামিস্ট সুহাশ পাল শিকার বলেন, এসব কারণে আগামী নির্বাচনগুলোয় বিজেপির পক্ষে কম লোকই ভোট দেবেন।
আর ছয় মাস পরই ভারতের উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে খারাপ ফল করলে বিজেপির বড় ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতার মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
গত মাসে ভারতে চালানো দুটি মতামত জরিপে দেখা গেছে, মোদির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে তিনি এখনো এগিয়ে।
ভারতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকাও মোদির জন্য আরেকটি সুযোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভারতের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তারা মোদিকে হারাতে এক জোট হতে চায়। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছে না।
এদিকে বিজেপি সরকার জনসমর্থন আদায়ে উঠেপড়ে লেগেছে। জুনের শেষ নাগাদ সংক্রমণ কমে আসায় মোদি টেলিভিশনে এসে জানিয়েছেন–কীভাবে তিনি করোনাকে নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং তাঁর সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতীয়রা নরেন্দ্র মোদির ওপর ক্ষুব্ধ কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভারতের জাতীয় দৈনিক ভাস্কর–এর জাতীয় বিভাগের সম্পাদক ওম গৌড় বলেন, ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১২টি থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিজেপির জনপ্রিয়তা কমেছে। নরেন্দ্র মোদি গত সাত বছরে এত কঠিন সময় আর পার করেননি।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মুরালিধর রাও বলেন, মোদির ওপর কেউ ক্ষুব্ধ কি না, তা তিনি জানেন না। আসন্ন নির্বাচনে কী হবে তা নিয়ে এখনই আলোচনা করা উচিত হবে না। জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান অ্যাজেন্ডা।

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন তৃণমূল সদস্য গোবিন্দ পাসি। উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বালাই গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পাসির অভিযোগ, তিনি স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত হলেও দলের কোনো সাহায্য পাননি। চিকিৎসার অভাবে স্ত্রী মারা গেছেন।
৪৫ বছরের গোবিন্দ পাসি বলেন, ‘আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমার যখন সাহায্য দরকার ছিল, তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ভারতের গঙ্গা নদীতে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, সৎকার করতে না পারায় তাঁদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়।’
এ নিয়ে উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলা বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আনন্দ অবস্তী জানান, তিনি পাসির স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানেন। তাঁর দল পাসিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অবস্তী বলেন, পাসির স্ত্রী করোনায় মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বলেই এই বিলম্ব।
শুধু পাসি নন, তাঁর মতো বিজেপির তৃণমূল এবং মধ্যম পর্যায়ের অনেক নেতাই করোনা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মোদি সরকারের ওপর হতাশ। এরই মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশের ছয়জন বিধায়ক করোনায় পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে চিঠি লিখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে চিঠিটি উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি বিজেপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা সরবরাহে ব্যর্থতা, লকডাউন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, মেডিকেল অক্সিজেন সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক ঘাটতির কারণে সাময়িক কর্মবিরতিতে যান তিনি।
বিজেপি ভারতের অন্যতম বৃহৎ দল। দলটির প্রায় ১৫ কোটি নেতা–কর্মী রয়েছেন। তবে সারা ভারতে নেতা–কর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর কতটা ক্ষুব্ধ সেটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা না গেলেও, এর আগে বিজেপির কোনো নেতা–কর্মীকে মোদির বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে শোনা যায়নি।
অবশ্য এ নিয়ে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা কৈলাস বিজয় বর্গীয় দাবি করেন, দলের ভেতর কোনো অসন্তোষ নেই।
গত বছরের শুরুর দিক থেকে ভারতে নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। তবে এর আগে থেকেই ভারতের অর্থনীতি দ্যুতি হারানোয় সমালোচনার মুখে পড়েন মোদি। আর এবার করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ভারতে হাসপাতালের শয্যা এবং মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট তীব্র হলে সেটি আরও প্রকাশ্য হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাসির মতো তৃণমূল নেতারাই বিজেপির ভোটযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। আর তাঁদের অসন্তোষ বিজেপিকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে।
এ নিয়ে ভারতের কলামিস্ট সুহাশ পাল শিকার বলেন, এসব কারণে আগামী নির্বাচনগুলোয় বিজেপির পক্ষে কম লোকই ভোট দেবেন।
আর ছয় মাস পরই ভারতের উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে খারাপ ফল করলে বিজেপির বড় ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতার মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
গত মাসে ভারতে চালানো দুটি মতামত জরিপে দেখা গেছে, মোদির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে তিনি এখনো এগিয়ে।
ভারতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকাও মোদির জন্য আরেকটি সুযোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভারতের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তারা মোদিকে হারাতে এক জোট হতে চায়। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছে না।
এদিকে বিজেপি সরকার জনসমর্থন আদায়ে উঠেপড়ে লেগেছে। জুনের শেষ নাগাদ সংক্রমণ কমে আসায় মোদি টেলিভিশনে এসে জানিয়েছেন–কীভাবে তিনি করোনাকে নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং তাঁর সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতীয়রা নরেন্দ্র মোদির ওপর ক্ষুব্ধ কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভারতের জাতীয় দৈনিক ভাস্কর–এর জাতীয় বিভাগের সম্পাদক ওম গৌড় বলেন, ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১২টি থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিজেপির জনপ্রিয়তা কমেছে। নরেন্দ্র মোদি গত সাত বছরে এত কঠিন সময় আর পার করেননি।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মুরালিধর রাও বলেন, মোদির ওপর কেউ ক্ষুব্ধ কি না, তা তিনি জানেন না। আসন্ন নির্বাচনে কী হবে তা নিয়ে এখনই আলোচনা করা উচিত হবে না। জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান অ্যাজেন্ডা।

বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে কেবল হাঙ্গেরি—যার প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনৈতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার বলা হয়, ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতা ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলাই...
১৫ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের এই নতুন সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সৌদি আরব। কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়, তখন দুই দেশের মধ্যে এসএমডিএ স্বাক্ষরিত হয় (গত বছরের সেপ্টেম্বরে)। সেখানে যোগ দিতে আবার সক্রিয় তদবির চালাচ্ছে তুরস্ক।
২ দিন আগে