আজকের পত্রিকা ডেস্ক

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে ‘সরে আসতে’ বাধ্য হয়েছে ভারত। এ খবর দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।
শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনৈতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার বলা হয়, ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপরই ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নে ভারতের এক দশকের সম্পৃক্ততা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।
এর পাল্টা জবাবে বিজেপি এই অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছে। ক্ষমতাসীন দলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছে, যেখানে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের এক দিন পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দরে ভারতের কার্যক্রম এখনো বৈধ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের অধীনে চলছে, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নয়াদিল্লি এ ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প থেকে ভারতের ‘প্রস্থান’ এবং নিষেধাজ্ঞার যুক্তি—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, চাবাহার বন্দর মূলত বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দরের কৌশলগত পাল্টা জবাব, যা চীন ও পাকিস্তানের কৌশলগত সুবিধা কমিয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, ভারত কি সত্যিই চাবাহার ছাড়তে বাধ্য হয়েছে? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে এই ক্ষতির পরিমাণ কতটা বড় হবে?

চাবাহার নিয়ে আসলে কী ঘটছে
চাবাহার বন্দর নিয়ে এই গুঞ্জনের মূল সূত্রপাত হয় দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়তে থাকায় ভারত কৌশলগতভাবে এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কথা ভাবছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানি ব্যবসায়ীরা মার্কেট বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীদের এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পাঁচ হাজার ইরাকি মিলিশিয়া নামায় এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। সরকারি বাহিনীর কঠোর দমনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
উত্তাল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তবে ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চাবাহার প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে রেখেছিল। কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতকে ছয় মাসের একটি বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভারতের কৌশলগত চালকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
বর্তমান ছাড়ের মেয়াদ ২০২৬ সালের এপ্রিলে শেষ হতে চলায় বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত চাবাহার প্রকল্পে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতির পুরো অর্থই পরিশোধ করে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়ার এক বছর আগেই ভারত চাবাহার উন্নয়নের জন্য তেহরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ১২০ মিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করেছে।
প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হলে অর্থ লেনদেন কঠিন হয়ে পড়বে জেনেই ভারত আগেভাগে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে।
ভারতের কাছে চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব এত বেশি কেন
ভারত সব সময় ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছায়ার মধ্যেই চাবাহারে কাজ করে এসেছে। তবে ওয়াশিংটন এখন তেহরানের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ভারতকে হয়তো ইরানের মাকরান উপকূলে তাদের ভূমিকা কমিয়ে আনতে বা নতুন করে সাজাতে হবে।
চাবাহার বন্দরটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে।
ভারতের জন্য এ বন্দর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার সরাসরি সমুদ্রপথ নিশ্চিত করে। এ ছাড়া মুম্বাই থেকে ইরান হয়ে রাশিয়া ও ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের এটি প্রধান কেন্দ্র।
এই বন্দরের আঞ্চলিক গুরুত্বও রয়েছে। মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর, যা চীন তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে তৈরি করেছে। আরব সাগর এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরে চীন-পাকিস্তান অক্ষকে রুখে দেওয়ার জন্য ভারত চাবাহারকে দীর্ঘকাল ধরে অন্যতম অস্ত্র হিসেবে দেখে আসছে।
২০০৩ সালে চাবাহার নিয়ে ভারতের আলোচনা শুরু হয় এবং ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারত চাবাহারের শহীদ বেহেশতি বন্দরের একাংশের কাজ শুরু করে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইরান একটি ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা দীর্ঘদিনের অস্থায়ী ব্যবস্থার ইতি টানে। এটি এই বন্দরে দীর্ঘ মেয়াদে থাকার জন্য নয়া দিল্লির সংকল্পেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
এ ছাড়া ভারত চাবাহার থেকে আফগান সীমান্তের জাহেদান পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়। ইরানের জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের সঙ্গে চাবাহারের সংযুক্তি ভারতের জন্য বিশাল বড় বাজার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে ‘সরে আসতে’ বাধ্য হয়েছে ভারত। এ খবর দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।
শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনৈতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার বলা হয়, ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপরই ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নে ভারতের এক দশকের সম্পৃক্ততা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।
এর পাল্টা জবাবে বিজেপি এই অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছে। ক্ষমতাসীন দলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছে, যেখানে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের এক দিন পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাবাহার বন্দরে ভারতের কার্যক্রম এখনো বৈধ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের অধীনে চলছে, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নয়াদিল্লি এ ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত ও কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প থেকে ভারতের ‘প্রস্থান’ এবং নিষেধাজ্ঞার যুক্তি—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, চাবাহার বন্দর মূলত বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দরের কৌশলগত পাল্টা জবাব, যা চীন ও পাকিস্তানের কৌশলগত সুবিধা কমিয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, ভারত কি সত্যিই চাবাহার ছাড়তে বাধ্য হয়েছে? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে এই ক্ষতির পরিমাণ কতটা বড় হবে?

চাবাহার নিয়ে আসলে কী ঘটছে
চাবাহার বন্দর নিয়ে এই গুঞ্জনের মূল সূত্রপাত হয় দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়তে থাকায় ভারত কৌশলগতভাবে এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কথা ভাবছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানি ব্যবসায়ীরা মার্কেট বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীদের এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পাঁচ হাজার ইরাকি মিলিশিয়া নামায় এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। সরকারি বাহিনীর কঠোর দমনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
উত্তাল এই সময়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তবে ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চাবাহার প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে রেখেছিল। কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতকে ছয় মাসের একটি বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভারতের কৌশলগত চালকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
বর্তমান ছাড়ের মেয়াদ ২০২৬ সালের এপ্রিলে শেষ হতে চলায় বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত চাবাহার প্রকল্পে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতির পুরো অর্থই পরিশোধ করে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়ার এক বছর আগেই ভারত চাবাহার উন্নয়নের জন্য তেহরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ১২০ মিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করেছে।
প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হলে অর্থ লেনদেন কঠিন হয়ে পড়বে জেনেই ভারত আগেভাগে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে।
ভারতের কাছে চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব এত বেশি কেন
ভারত সব সময় ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছায়ার মধ্যেই চাবাহারে কাজ করে এসেছে। তবে ওয়াশিংটন এখন তেহরানের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ভারতকে হয়তো ইরানের মাকরান উপকূলে তাদের ভূমিকা কমিয়ে আনতে বা নতুন করে সাজাতে হবে।
চাবাহার বন্দরটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে।
ভারতের জন্য এ বন্দর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার সরাসরি সমুদ্রপথ নিশ্চিত করে। এ ছাড়া মুম্বাই থেকে ইরান হয়ে রাশিয়া ও ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের এটি প্রধান কেন্দ্র।
এই বন্দরের আঞ্চলিক গুরুত্বও রয়েছে। মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর, যা চীন তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে তৈরি করেছে। আরব সাগর এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরে চীন-পাকিস্তান অক্ষকে রুখে দেওয়ার জন্য ভারত চাবাহারকে দীর্ঘকাল ধরে অন্যতম অস্ত্র হিসেবে দেখে আসছে।
২০০৩ সালে চাবাহার নিয়ে ভারতের আলোচনা শুরু হয় এবং ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারত চাবাহারের শহীদ বেহেশতি বন্দরের একাংশের কাজ শুরু করে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইরান একটি ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা দীর্ঘদিনের অস্থায়ী ব্যবস্থার ইতি টানে। এটি এই বন্দরে দীর্ঘ মেয়াদে থাকার জন্য নয়া দিল্লির সংকল্পেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
এ ছাড়া ভারত চাবাহার থেকে আফগান সীমান্তের জাহেদান পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়। ইরানের জাতীয় রেল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের সঙ্গে চাবাহারের সংযুক্তি ভারতের জন্য বিশাল বড় বাজার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে কেবল হাঙ্গেরি—যার প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতা ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলাই...
১৩ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের এই নতুন সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সৌদি আরব। কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়, তখন দুই দেশের মধ্যে এসএমডিএ স্বাক্ষরিত হয় (গত বছরের সেপ্টেম্বরে)। সেখানে যোগ দিতে আবার সক্রিয় তদবির চালাচ্ছে তুরস্ক।
২ দিন আগে
ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী হুমকি, চীনের আঞ্চলিক বিস্তার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে একের পর এক বৈশ্বিক সংকটে পড়েছে ভারত। এর মধ্যে ইরানের চলমান অস্থিতিশীলতা কূটনৈতিক সমীকরণ, বাণিজ্যপথ ও নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে...
৩ দিন আগে