Ajker Patrika

মার্কিন হামলার সুবাদে হরমুজে ইরানের টোল বুথ, লেনদেন চলছে যেভাবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মার্কিন হামলার সুবাদে হরমুজে ইরানের টোল বুথ, লেনদেন চলছে যেভাবে
ফাইল ছবি

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সুবাদে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম ধমনি হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘টোল বুথে’ পরিণত করেছে ইরান। একদিকে যেমন তাঁরা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে রহস্য হলো, আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরান কীভাবে তেলের দাম বুঝে নিচ্ছে?

আসলে পর্দার আড়ালে ব্যাংক, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির এক বিশাল ‘ছায়া নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলেছে তেহরান, যার বড় অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন।

২০১২ সালে ইরানের ব্যাংকগুলোকে বৈশ্বিক লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর থেকেই তেহরান বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে। যদিও ২০১৬ সালে পরমাণু চুক্তির পর তারা সাময়িকভাবে আবার সুইফটে যুক্ত হয়েছিল; কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন আবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তাঁরা বুঝতে পারে, ডলার বা ইউরোর ওপর ভরসা করা নিরাপদ নয়।

এর জবাবে ইরান বর্তমানে কয়েকটি সমান্তরাল ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। কিছু লেনদেন হয় এমনসব দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে, যারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার ঝুঁকি নিতে রাজি। এ ছাড়া রয়েছে ‘শেতাব’ সিস্টেম, যা সম্প্রতি রাশিয়ার ‘মির’ পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের ব্যাংক কার্ড এখন একে অপরের দেশে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ‘হাওয়ালা’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও সিঙ্গাপুরে থাকা কয়েক হাজার ভুয়া বা ‘শেল’ কোম্পানি। পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই ছায়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি; ২০২৫ সালেই ইরানসংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো লেনদেন ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশই এখন কিনছে চীন। এখানে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। ফলে আমেরিকার নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া সহজ হচ্ছে। চীনের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম সিআইপিএস এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। গত মার্চ মাসে এই সিস্টেমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ রেকর্ড ১৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও সরাসরি প্রমাণ নেই যে, এর পুরোটাই ইরানের তেল বিক্রির টাকা, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইউয়ানের লেনদেন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষণ।

ভবিষ্যতে ডিজিটাল মুদ্রা বা সিবিডিসি ব্যবহার করে এই লেনদেন আরও সহজ করার পরিকল্পনা চলছে। ‘প্রজেক্ট এম-ব্রিজ’ নামক একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে চীন, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো যুক্ত হয়েছে। জি৭-ভুক্ত দেশগুলোর অর্থ কর্মকর্তাদের ধারণা, চলমান ইরান যুদ্ধের সময় এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তেলের দাম পরিশোধ করা হতে পারে। এ ছাড়া ইরান নিজেও ‘ডিজিটাল রিয়াল’ নিয়ে কাজ করছে।

এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলো ডলারকে চ্যালেঞ্জের মুখে না ফেললেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধার কমিয়ে দিচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দিকে নজর রাখা জরুরি, কারণ ভারত ইরানের তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেভাবে ডলারের বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তুলছে, তা দীর্ঘ মেয়াদে বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইরান হয়তো নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে পুরোপুরি বের হতে পারছে না; কিন্তু তারা নিশ্চিতভাবেই কম খরচে এবং কম ঝুঁকিতে অর্থ লেনদেনের পথ বের করে নিয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিল থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহনগঞ্জে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা, আটক ১

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, মধ্যস্থতায় অনীহা কাতারের

প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদ দিন ৬ খাবার

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে ‘বিপজ্জনক’ মিশনে মার্কিন বাহিনী, হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরানও

ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত