যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা দেশ রাশিয়া। বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি হয় তার প্রায় ২০ শতাংশ একাই বিক্রি করে রাশিয়া। ২০১৬ সালের পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট চার বছরে রাশিয়া বিশ্বের ৪৫টি দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছে। এই সময়ে অস্ত্র বিক্রির মোট পরিমাণ ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস প্রকাশিত ২০২১ সালের অক্টোবরের এক প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, রাশিয়া কেবল ২০২০ সালেই এককভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। একই সময়ে অস্ত্র বিক্রির অর্ডার ছিল আরও প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারের।
রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির ৯০ শতাংশই বিক্রি হয় মাত্র ১০টি দেশে। তবে দেশ হিসেবে রাশিয়ার অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত। বিগত পাঁচ বছরে ভারত রাশিয়ার মোট অস্ত্র বিক্রির ২৩ শতাংশ একাই ক্রয় করেছে। টাকার অঙ্কটাও বিশাল। এই সময়ে ভারত অস্ত্র ক্রয় বাবদ ৬৫০ কোটি ডলার দিয়েছে রাশিয়াকে। ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির অর্ধেক; অর্থাৎ, প্রায় ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুসারে, একই সময়ে চীন রাশিয়ার অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে কিনেছে ৫১০ কোটি ডলারের অস্ত্র। এ ছাড়া তালিকায় পরের দেশগুলো হলো—আলজেরিয়া (৪২০ কোটি ডলার), মিশর (৩৩০ কোটি ডলার) এবং ভিয়েতনাম (১৭০ বিলিয়ন ডলার)। রুশ অস্ত্র ক্রেতার দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও।
রাশিয়া যে সব অস্ত্র বিক্রি করে
রাশিয়া বিমান, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার, বিমানের ইঞ্জিন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান এবং একে-৪৮ এর মতো বিখ্যাত রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রপ্তানি করে।
বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানির প্রায় অর্ধেক; অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ আসে বিভিন্ন ধরনের বিমান ও যুদ্ধবিমান বিক্রি থেকে। ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়া কমপক্ষে ১৩টি দেশে সুখোই ও মিগ পরিবারের বিভিন্ন যুদ্ধবিমানসহ প্রায় ৪০০টি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে অন্তত অর্ধেক ভারত কিনেছে। এ ছাড়া রাশিয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিক্রি করে বিভিন্ন দেশে। ভূমি থেকে আকাশ, আকাশ থেকে ভূমি, ভূমি থেকে ভূমি, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ রাডার তৈরি ও বিক্রি করে রাশিয়া।
রাশিয়ার সমরাস্ত্র রপ্তানির তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু হেলিকপ্টারও। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে বিগত ১০ বছরে অন্তত ২ হাজার কোটি ডলারের হেলিকপ্টার বিক্রি করেছে রাশিয়া।
এ ছাড়া বর্তমান রাশিয়া প্রচুর পরিমাণে তাঁদের সোভিয়েত আমলের অস্ত্র নিয়মিত উন্নত করছে। তার মধ্যে একটি হলো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এস-৪০০ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার এই সিস্টেমটির অন্যতম ক্রেতা দেশগুলো হলো চীন, ভারত, সিরিয়া ও তুরস্ক। এ ছাড়া অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ দীর্ঘ-পাল্লার সহজে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব সিস্টেমের প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।
আর্মার্ড ভেহিকল বা সাঁজোয়া যান
রাশিয়া আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার বা এপিসি, বিভিন্ন ধরনের মেইন ব্যাটল ট্যাংক বা এমবিটি, পদাতিক বাহিনীর যুদ্ধযান বা ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল বা আইএফভি, বিভিন্ন ধরনের সেলফ প্রপেলড আর্টিলারিসহ নানা ধরনের সামরিক যানবাহন বিক্রি করে থাকে।
নেভাল সিস্টেম
রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক যুদ্ধ ও পরিবহন যান রপ্তানি করে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত সেন্সর, রাডার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো, বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি রপ্তানি করে।
কেবল তাই নয়, রাশিয়া তাঁর পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইজারাও দিয়ে থাকে। ভারত তাঁর পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে।
একে-৪৭: বিশ্বের প্রখ্যাত অস্ত্র
বিশ্বে সবচেয়ে বিখ্যাত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রাশিয়ার তৈরি অস্ত্র একে-৪৭ রাইফেল বা কালাশনিকভ রাইফেল। বিগত শতকের ৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে তৎকালীন সোভিয়েত সেনা জেনারেল মিখাইল কালাশনিকভের তৈরি সস্তা, টেকসই, সহজে ব্যবহার ও বহনযোগ্য অ্যাসল্ট রাইফেলটি বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশে প্রথম পছন্দের অস্ত্র। একে বলতে ‘অ্যাভটোম্যাট কালাশনিকোভা’ নির্দেশ করে যার অর্থ হলো কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল। ‘৪৭’ সংখ্যাটি রাইফেলটি তৈরির বছর নির্দেশ করে।
বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১০০ মিলিয়ন একে-৪৭ রাইফেল বা তার অনুরূপ রাইফেল রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ব্যয়কারী দেশসমূহ
বিশ্বের সামরিক বাজেটের ক্ষেত্রে প্রথম দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ অর্থ আর কোনো দেশ ব্যয় করে না। এসআইপিআরআই-এর বিশ্লেষণ অনুসারে সামরিক খাতে ব্যয়ের তালিকায় থাকা পরবর্তী ১০ টিও সম্মিলিতভাবে এত ব্যয় করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পরে থাকা দেশগুলো হলো যথাক্রমে—চীন ২৫২ বিলিয়ন ডলার, ভারত ৭৩ বিলিয়ন ডলার, রাশিয়া ৬২ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য ৫৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে।

বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের মিত্র ইরান। কিন্তু দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু পর প্রথম দিকে চীন তুলনামূলক নীরব ছিল। ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানে বর্ষীয়ান সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেলে বেইজিংয়ের কোনো শোকের আধিক্য দেখা যায়নি।
১৭ ঘণ্টা আগে
চলতি বছর একের পর এক সংকট পার করছে ইরানিরা। জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন নির্মমভাবে দমন এবং মাস দুয়েকের মধ্যেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলায় ইরানিদের সাধারণ জীবন প্রায় তছনছ হয়ে গেছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে তাঁদের।
১ দিন আগে
বিশ্বজুড়ে এখন ‘সবুজ সোনা’ বা পেস্তাবাদাম নিয়ে চলছে এক চরম ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। বর্তমান বিশ্বে পেস্তাবাদামের বাজার মূলত তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তুরস্কের করায়ত্ত। এই তিন দেশ মিলে বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৮৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।
২ দিন আগে
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট’। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের বাজারেও বড় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক শ্রমিকদের নাভিশ্বাস উঠছে।
৩ দিন আগে