
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করে দেওয়া। তবে কয়েক মাসের সংঘাতের পর এখন দুই পক্ষ অন্তর্বর্তী সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। এই সমঝোতা যা যুদ্ধ থামাতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বিরোধের সমাধান করবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা আরও মনে করছেন, এই সমঝোতায় ইরানকে মাথানত করাতে পারবে না।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির ফলে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এবং সামরিক-শিল্প অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রবেশ করবে। তবে একই সঙ্গে দেশটির প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ড বা বিপ্লবী গার্ডের ক্ষমতা আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে—আলোচনায় থাকা সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে পারে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, বিশ্ববাজারের ওপর চাপ কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ডেনিস রস বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও কৌশলগতভাবে মৌলিক কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘অসাধারণ সামরিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে, কিন্তু মৌলিক কোনো কৌশলগত লাভ হয়নি। এমন কোনো ইস্যু নেই, যার ফাইল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।’
সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় থাকা সমঝোতার আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে পারে। বিনিময়ে দেশটি জব্দকৃত সম্পদ ফেরত পাওয়া বা সীমিত আকারে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা এই ধরনের সীমিত চুক্তিকে অর্থনৈতিক চাপ কমানোর একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। তাদের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক সংকট থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি ভাষা খুঁজছে, যা দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা যাবে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
তবে সম্ভাব্য চুক্তি হলেও সংঘাতের প্রধান কারণগুলো বহাল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি নয়। একই সঙ্গে দেশটি নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। ইরানের ধারণা, ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে এসব সক্ষমতা অপরিহার্য।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন এখনো ইরানকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত নয়। আর ইসরায়েল ইরানকে তার অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইর বলেন, ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে যা চান এবং ইরান যা দিতে রাজি, তা বাইরে থেকে কাছাকাছি মনে হলেও বাস্তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে মিল খুবই সীমিত।
তাঁর মতে, বর্তমান কৌশল হলো এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং কঠিন বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া। তবে সেই দ্বিতীয় ধাপ আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত দুই আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির ফলে একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে অস্পষ্ট ভাষার প্রতিশ্রুতি থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত ইরানের প্রভাবের মধ্যেই থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলেও বাস্তবে এর ওপর ইরানের প্রভাব বজায় থাকবে।
এদিকে, আলোচনায় আরও কিছু জটিল বিষয় রয়েছে। ইরান চায়, যেকোনো সমঝোতার সঙ্গে ইসরায়েলের হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত করা হোক। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বার্তা নিশ্চিত করতে চাইছে।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও ট্রাম্প কার্যত লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি প্রশ্নকে একসঙ্গে বিবেচনা করছেন। এ কারণে তিনি ইসরায়েলকে বৈরুত ও দক্ষিণ বৈরুতে হামলা সীমিত করার জন্য চাপ দিয়েছেন।
সূত্রগুলোর মতে, ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা। এই অর্থ ছাড়া তেহরান কোনো চুক্তির দিকে এগোবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক ডেভিড শেনকার বলেন, ট্রাম্প চান না তাঁর উদ্যোগকে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হোক। কিন্তু ইরানের অর্থ ছাড় করার সিদ্ধান্ত নিলে সেই সমালোচনা এড়ানো কঠিন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে গেলেও এর রাজনৈতিক লাভবান হতে পারে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। ডেভিড শেঙ্কার বলেন, ‘আগে তারা ছিল ক্ষমতার পেছনের শক্তি, এখন তারাই ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে।’ তাঁর মতে, সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তি ইসরায়েলের উদ্বেগ দূর করবে না। কারণ ইরানের নেতৃত্ব এই যুদ্ধকে আদর্শিক সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কোনো সমঝোতাই দুই দেশের গভীর বৈরিতার অবসান ঘটাবে না।
ডেনিস রসের ভাষায়, ‘ইসরায়েল ও ইরানের জন্য যুদ্ধের এই অধ্যায় হয়তো শেষ হয়েছে, কিন্তু সংঘাত শেষ হচ্ছে না।’

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, বিস্ময় এবং ইতিহাস সৃষ্টির মঞ্চ। প্রতি আসরেই কোনো একটি দেশের সমর্থকেরা স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসেন, আর বাকি দেশগুলোর সমর্থকদের সঙ্গী হয় হতাশা।
১৭ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং পাঁচ দিনের সফরে ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২ দিন আগে
ভারতের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একগুঁয়ে আঞ্চলিকতাবাদ দিয়েই সংজ্ঞায়িত হয়ে এসেছে। আসাম, কেরালা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর স্বতন্ত্র ভাষাগত পরিচয়, সামাজিক সংস্কার আন্দোলন এবং গভীরভাবে প্রোথিত ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী ঐতিহ্য কয়েক দশক ধরে এমন এক বাস্তবতা বজায়...
২ দিন আগে
সহজ জয়ের আশায় যুদ্ধে জড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন মস্ত বড় ভুলের মাশুল দিচ্ছেন এবং এক ভয়ানক ফাঁদে আটকা পড়েছেন। ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভুল হিসাব করেছিলেন...
৩ দিন আগে