
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক কৌশল ও অর্থনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে কুয়েতের সঙ্গে একটি বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় কুয়েতকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেওয়ার বিনিময়ে জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ পেতে চায় সংকটে থাকা পাকিস্তান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ শুক্রবার এই চুক্তির তথ্যটি প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের চারজন উচ্চপদস্থ সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনৈতিক সূত্রে বরাতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার এই আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়া বেশ জটিল হতে পারে।
এর আগে গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। এরপর থেকেই ইসলামাবাদের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, এই চুক্তির কারণে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তান জড়িয়ে পড়তে পারে। এর মধ্যে গত সোমবার ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সরাসরি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তান ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকেই যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের মুখে কুয়েত এখন ইসলামাবাদের কাছ থেকে সৌদি আরবের মতোই সামরিক সহায়তার আশা করছে।
কুয়েতের এই ‘উইশ লিস্ট’ বা চাহিদাপত্রের মধ্যে রয়েছে কুয়েতের মাটিতে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা (যুদ্ধপ্রস্তুত) মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক ড্রোন এবং একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) স্থাপন। তবে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যকার কয়েক দশকের পুরোনো ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তান যেভাবে সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছিল, কুয়েতের ক্ষেত্রে তারা সেটা করবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
পাকিস্তানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, কুয়েত সবকিছুই চাইছে ঠিকই, তবে এই মুহূর্তে কুয়েতের মাটিতে সরাসরি কোনো কমব্যাট বা যুদ্ধপ্রস্তুত সৈন্য দল মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা বা সক্ষমতা ইসলামাবাদের নেই। মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা চললেও এটি শেষ পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) কিংবা কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তির মূল আকর্ষণ হলো ‘ব্যারেলস ফর বুটস’ নীতি, যার অর্থ হলো সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে জ্বালানি তেল ও পুঁজি নিশ্চিত করা। পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বর্তমানে দেশের তেল ও জ্বালানি মজুত বাড়াতে মরিয়া এবং কুয়েতের সঙ্গে চলমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তারা একটি বন্ডেড ফুয়েল স্টোরেজ বা যৌথ জ্বালানি সংরক্ষণাগার গড়ে তুলতে চায়। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের জন্য কুয়েতের এই বিনিয়োগের প্রস্তাব এতটাই লোভনীয় যে, মার্কিন-ইরান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া মাত্রই এই আলোচনা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গত এক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তানের মতো বড় সামরিক শক্তিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ পাকিস্তানের নিজস্ব যুদ্ধবিমান উৎপাদন ও পরমাণু প্রযুক্তি রয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদ উভয়ের সঙ্গেই তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যেই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে একটি পৃথক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করছে এবং বাহরাইন ও জর্ডানও পাকিস্তানের কাছ থেকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক মুহাম্মদ ফয়সাল সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রয়োজন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়ংকর যুদ্ধাবস্থার মধ্যে চারদিকে সামরিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

ফুটবল মাঠে রেকর্ড ভাঙা, একের পর এক ট্রফি জয় ও পায়ের জাদুতে বিশ্বকে মুগ্ধ করার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নিজের এক শক্তিশালী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। বিশেষ করে, ইউরোপের পর্যটন খাতে বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসার মাধ্যমে তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের এক নতুন পরিচয় তৈ
৪ ঘণ্টা আগে
এবারের বিশ্বকাপ আগের যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে বড়। অনেক বেশি দেশ অংশ নিয়েছে, বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে মাঠের লড়াই দেখছে আরও বেশি মানুষ, আর একই সঙ্গে বেড়েছে অর্থ আয়ের সুযোগও। মাঠে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা যখন ইতিহাস গড়ছেন, তখন মাঠের বাইরেও ঘুরছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।
৭ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেনের সংস্কারপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তটি কেবল একটি মন্ত্রিসভার রদবদল নয়, বরং এটি যুদ্ধকালীন ইউক্রেনের সামরিক কাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশের...
৮ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আশাবাদের আবহ তৈরি হয়। উদ্দেশ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা।
১ দিন আগে