Ajker Patrika

বিশ্বকাপ আয়োজনে সর্বাধিক মুনাফা করল কারা, লোকসান গুনল যারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৩৪
বিশ্বকাপ আয়োজনে সর্বাধিক মুনাফা করল কারা, লোকসান গুনল যারা
ছবি: এএফপি

এবারের বিশ্বকাপ আগের যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে বড়। অনেক বেশি দেশ অংশ নিয়েছে, বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে মাঠের লড়াই দেখছে আরও বেশি মানুষ, আর একই সঙ্গে বেড়েছে অর্থ আয়ের সুযোগও। মাঠে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা যখন ইতিহাস গড়ছেন, তখন মাঠের বাইরেও ঘুরছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। তবে এই বিপুল অর্থের খেলায় সবাই সমানভাবে লাভবান হচ্ছেন না। এই বিশ্বকাপে যেমন রয়েছে বড় আর্থিক বিজয়ী, তেমনি রয়েছে বড় পরাজিতও।

ফিফা: সবচেয়ে বড় লাভবান

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপ থেকে যে পরিমাণ অর্থ আয় করে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটি রেকর্ড ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অঙ্ক আরও ছাড়িয়ে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এবার ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর হওয়ায় আয়ও বাড়বে।

ডয়েচে ব্যাংক রিসার্চের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ ম্যারিয়ন লাবোরে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ফিফাই সবচেয়ে বড় বিজয়ী। চার বছরের চক্রে তাদের মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে চলেছে।’

ফিফার আয়ের প্রধান উৎস হলো সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি, লাইসেন্সিং ও আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) অধিকার, স্পনসরশিপ চুক্তি এবং টিকিট বিক্রি। লাবোরে আরও বলেন, ‘ফিফা এখন সেকেন্ডারি মার্কেটেও প্রবেশ করেছে। তাদের আনুষ্ঠানিক রিসেল মার্কেটপ্লেসে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে ফি নেওয়া হচ্ছে।’

আগামী টুর্নামেন্টগুলোতে এ ধরনের আয় আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ফিফা বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪-তে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে চীন ও ভারতের মতো দেশও অংশ নিতে পারে, যার ফলে আরও কয়েকশ কোটি দর্শক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সমর্থকেরা: আর্থিকভাবে পরাজিত

যদিও বহু সমর্থকের আজীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে এই বিশ্বকাপ তাঁদের জন্য ছিল কঠিন অভিজ্ঞতা। শুধু টিকিট কিনতেই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি চাহিদা বাড়লে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার ফিফার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নীতিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের সম্ভাব্য মূল্য ১ হাজার ডলার হলে তিনি ‘দিতেন না।’ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের টিকিটের সরকারি মূল্য ছিল ৩২ হাজার ৯৭০ মার্কিন ডলার। আর পুনর্বিক্রয় বাজারে (রিসেল) কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলারেরও বেশি পর্যন্ত উঠেছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য টিকিটের দামকে সমর্থন করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় ক্রীড়া আসরের তুলনায় এসব মূল্য অস্বাভাবিক নয়।

টিকিটের বাইরেও বিমানভাড়া, খাবার ও আবাসন ব্যয়ের কারণে সমর্থকদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল নিউ জার্সি ট্রানজিট ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে ৩০ মিনিটের ট্রেনযাত্রার ভাড়া, যেখানে সাধারণত আসা-যাওয়ার জন্য ১২ দশমিক ৯০ ডলার লাগত, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তা বাড়িয়ে ১৫০ ডলার করা হয়। ব্যাপক সমালোচনার পর ভাড়া কিছুটা কমানো হলেও তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসররা: বড় লাভবান

বিশ্বকাপ সম্প্রচারের অধিকার কিনতে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবে দর্শকসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহের কারণে বিজ্ঞাপনের সময় বিক্রি করে তারাও বড় অঙ্কের মুনাফা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশ্বকাপে ফিফা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ চালু করেছে। ইনফান্তিনো দাবি করেন, এটি ‘সম্পূর্ণ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়’ এবং এর মাধ্যমে ফিফার কোনো অতিরিক্ত আয় হয় না।

তবে খেলোয়াড়দের পানি পান ও বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত ৯০ সেকেন্ডের এই বিরতি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্পনসরদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে দর্শকেরা বিজ্ঞাপন বিরতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া খেলায় অভ্যস্ত। মার্কিন সম্প্রচারকারী ফক্স স্পোর্টস, যারা যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচারস্বত্বের জন্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানা যায়, তারা হাইড্রেশন বিরতিকে একটি ব্র্যান্ডের নামে ‘স্পনসর্ড বাই’ হিসেবে প্রচার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফক্সে বিশ্বকাপের গড় ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের মূল্য ২ লাখ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ ও নকআউট পর্বে তা সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর অর্থ, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই হাইড্রেশন বিরতির বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই বিরতি ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও বহাল থাকবে।

ডয়েচে ব্যাংক রিসার্চের লাবোরে বলেন, ‘হাইড্রেশন ব্রেক আসলে পুরোপুরি বিজ্ঞাপনের জন্য নতুন ইনভেন্টরি। এগুলো উঠে যাবে বললে—আমি অত্যন্ত বিস্মিত হব। সম্প্রসারিত ফরম্যাটও থাকবে, কারণ, এখন পরিসর বাড়ানোই ফিফার ব্যবসায়িক মডেল।’

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক স্পনসররা নিজেদের ব্র্যান্ডকে টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তবে অ্যাডিডাস ও কোকা-কোলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বত্র নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবেও লাভবান হয়। জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নাইকির সঙ্গে বিজ্ঞাপনী প্রতিযোগিতায় নেমে লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহ্যাম ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে তৈরি ‘ব্যাকইয়ার্ড লেজেন্ডস’ বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে।

তবে ফিফা অনানুষ্ঠানিক ব্র্যান্ডগুলোর দৃশ্যমানতা কমানোর চেষ্টা করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান উল্টো লাভবান হয়েছে। যেমন, সান ফ্রান্সিসকোর লেভাইস স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা লেভাইসের লোগো ঢেকে দেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ডেভিড বেকহ্যাম: আরেক বিজয়ী

অ্যাডিডাসের প্রধান বিজ্ঞাপনেও সাবেক ব্রিটিশ স্যার ডেভিড বেকহ্যামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। সত্যি বলতে, ব্যক্তিগতভাবে শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার সময় হয়তো তাঁর ছিল না। যুক্তরাজ্যের প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ বেকহ্যামকে হোম ডিপো থেকে শুরু করে ব্যাংক অব আমেরিকার বিজ্ঞাপন পর্যন্ত এত জায়গায় দেখা গেছে যে, তিনি আসলে কোন ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে বুটজোড়া তুলে রাখলেও, বেকহ্যাম এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। তাঁর যৌথ মালিকানাধীন ক্লাব ইন্টার মায়ামির মূল্য বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি বলে ধারণা করা হয়। মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। কিন্তু মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার দাবি তাঁর ক্ষেত্রেই সম্ভবত সবচেয়ে জোরালো।

আয়োজক শহরগুলো: কারা ক্ষতিগ্রস্ত?

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকাজুড়ে বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরে ভক্ত ও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এতে আতিথেয়তা খাত, হোটেল এবং স্থানীয় ব্যবসায় কিছুটা গতি এসেছে। তবে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা যেমন বোস্টনের পানশালাগুলো প্রায় খালি করে ফেলেছেন এবং শহর ও সেখানকার মানুষের মন জয় করেছেন, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল খুবই সীমিত।

ফিফার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই যুক্ত হবে ১৭ বিলিয়ন ডলার এবং সৃষ্টি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার কর্মসংস্থান, যার বেশিরভাগই আতিথেয়তা ও আবাসন খাতে।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিসের ফেলো এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড গ্লোবাল প্রজেক্টসের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্সান্ডার বুজিয়ের বলছেন, এত বড় ক্রীড়া আসরের আয়োজক হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বাস্তবে দেখা যায় না। তাঁর মতে, আয়োজক শহরগুলোতে বরং অনেক সময় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, কারণ অনেকেই টুর্নামেন্ট ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভ্রমণ স্থগিত রাখেন। তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান কিছুটা বাড়লেও তা মূলত আতিথেয়তা খাতের কম বেতনের চাকরি। তাঁর ভাষায়, ‘এটি চাকরি সৃষ্টি করে, কিন্তু সম্পদ সৃষ্টি করে না।’

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পাব, বার ও রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়োগ বেড়েছিল। তবে সেই কর্মসংস্থানের উল্লম্ফন খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। বুজিয়েরের মতে, একমাত্র ‘সার্থক’ অর্থনৈতিক সুফল আসে পুনর্গঠন প্রকল্প থেকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের পর স্ট্র্যাটফোর্ড এলাকায় পুনর্উন্নয়ন ও আবাসন নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে মূলত বিদ্যমান স্টেডিয়াম, হোটেল, অনুশীলন কমপ্লেক্স এবং যাতায়াত অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই তাঁর মতে, ‘উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে কোনো অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে না।’

ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল খাত

হোটেল কক্ষের যে ব্যাপক চাহিদার আশা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে দেখা যায়নি। শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আয়োজক শহরগুলোতে এ বছর হোটেল বুকিং গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত বুকিংয়ের হিসাব এখনো প্রকাশ না হলেও জুন ও জুলাই মাসে বুকিংয়ের গতি আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে ছিল, যদিও কানাডায় অনুষ্ঠিত সাতটি ম্যাচের আয়োজক ছিল ভ্যাঙ্কুভার।

সংগঠনটি বলছে, এমন টুর্নামেন্টের কারণে টানা ৪০ দিন হোটেল পুরোপুরি বুকড থাকে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচের তারিখকে কেন্দ্র করেই চাহিদা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল মালিকদের ক্ষেত্রেও টুর্নামেন্ট-পূর্ব যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, ফিফা নিজেদের ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত সংখ্যক কক্ষ আগাম বুক করে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেছিল। তবে ফিফা বলেছে, তারা এই অভিযোগকে স্বীকৃতি দেয় না।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের গবেষক লাবোরে বলেন, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল, যখন প্রত্যাশা অনুযায়ী চাহিদা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, ‘এপ্রিল মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল যে বুকিং তাদের প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় কম ছিল। নিউইয়র্কের দুই-তৃতীয়াংশ হোটেল মালিক প্রত্যাশার চেয়ে কম বুকিংয়ের কথা জানান। আর সিয়াটলে প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল মালিক একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাঁদের অনেকেই এই টুর্নামেন্টকে “কোনো ঘটনাই নয়” বলে মন্তব্য করেছেন।’

লাভবানের তালিকায় বেটিং কোম্পানি

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারির মতে, ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়া বা বেটিং ইভেন্টে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, টুর্নামেন্টজুড়ে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাজি ধরা হবে। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজি ধরা হতে পারে।

ম্যাককোয়ারির মতে, এর প্রধান কারণ হলো এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালের ৬৪টি ম্যাচের পরিবর্তে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১০০ টিরও বেশি ম্যাচ।

ফ্লাটার এনটারটেইনমেন্টের অধীনে প্যাডি পাওয়ার, বেটফেয়ার এবং স্কাই বেটের মতো বাজির প্ল্যাটফর্ম আছে। তারা পূর্বাভাস দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে বাজার সম্প্রসারণের কারণে এবারের বিশ্বকাপে মোট বাজির পরিমাণ আগের আসরের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। ম্যাককোয়ারির বিশ্লেষক চ্যাড বেইনন বলেন, ম্যাচ শুরুর আগে বাজি ধরার প্রচলিত ধারা এখন অনেকটাই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ইন-প্লে বেটিংকে।

তাঁর ভাষায়, ‘এখন সবকিছু নির্ভর করছে মাঠে কী ঘটছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দেখে নিজের ধারণা বদলে নেওয়ার ওপর। আগে মানুষ বসে ম্যাচ দেখত এবং অপেক্ষা করত। তখন ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই বাজি ধরতে হতো।’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীড়া বেটিং শিল্প এখনো তুলনামূলকভাবে নতুন। ২০১৮ সালের আগে লাস ভেগাস ছাড়া অন্য কোথাও খেলা সংক্রান্ত বাজি বৈধ ছিল না। তবে সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর অনেক অঙ্গরাজ্য এটি বৈধ করার পথ পায়।

তবে এখনো ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে খেলা নিয়ে বাজি অবৈধ। এসব এলাকায় প্রেডিকশন মার্কেটে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এটি দ্রুত বর্ধনশীল, বিলিয়ন ডলারের একটি বাজার, যা বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে জনপ্রিয়। যেহেতু এটি আইনগতভাবে জুয়া হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়, তাই যে অঙ্গরাজ্যেই কেউ থাকুক না কেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে খেলাধুলা নিয়ে বাজি ধরা সম্ভব।

বিবিসি থেকে অনূদিত

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত